খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ধামরাই উপজেলায় সুদখোর মহাজনদের লাগাতার মানসিক চাপ ও নিপীড়নের অভিযোগে এক যুবকের আত্মহননের ঘটনা স্থানীয়ভাবে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নিহত ব্যক্তি বাইসাকান্দা ইউনিয়ন সদরের বাসিন্দা সুমন রাজবংশী, যিনি অপু রাজবংশী নামেই পরিচিত ছিলেন। পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চড়া সুদের বোঝা, সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়া এবং প্রতিনিয়ত অর্থ আদায়ের চাপই তাঁকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।
শনিবার ঘটনাটির আগে অপু রাজবংশী তাঁর স্ত্রী ফুলমালা রাজবংশীর উদ্দেশে তিন পাতার একটি হৃদয়বিদারক চিঠি লিখে রেখে যান। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, সুদখোর মহাজন শাহিন আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই তিনি জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছেন। স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি ভালোবাসা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ঋণের অজুহাতে তাঁর ভিটেমাটি, জায়গাজমি লিখে নেওয়া হয়েছে; এমনকি জীবিকার শেষ সম্বল ভ্যানগাড়িটিও বিক্রি করে টাকা আদায় করা হয়েছে। এত কিছুর পরও বড় অঙ্কের টাকা দাবির চাপ থামেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপু রাজবংশী কুশুরা ইউনিয়নের কান্টাহাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এবং আমছিমুর গ্রামের শাহিন আলমের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে তুলনামূলক অল্প অঙ্কের ঋণ হলেও সাপ্তাহিক সুদের কড়াকড়িতে তা দ্রুত চক্রবৃদ্ধি হয়ে ওঠে। নিয়মিত সুদ দিতে না পারায় ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলে। অভিযোগ রয়েছে, দেনা আদায়ের নামে তাঁকে বারবার হুমকি ও অপমান করা হতো, যা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
নিহতের পরিবার বলছে, অপু ছিলেন পরিশ্রমী ও সংসারমুখী। ঋণের বোঝা নামাতে তিনি দিনরাত চেষ্টা করলেও সুদের শর্ত ও চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে সুদব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিজা আক্তার জানান, অপু রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি আবারও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক ঋণ ও সুদের কুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহলের মতে, আইনি নজরদারি জোরদার করা, সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকানো কঠিন হবে।
ঋণের শর্ত ও অভিযোগের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঋণদাতার নাম | শাহিন আলম, জাহাঙ্গীর আলম |
| প্রাথমিক ঋণ | ১০,০০০ টাকা |
| সুদের হার | প্রতি সপ্তাহে ১,০০০ টাকা |
| সুদের ধরন | সাপ্তাহিক, চক্রবৃদ্ধি |
| অভিযোগকৃত আদায় | ভিটেমাটি, জায়গাজমি, ভ্যানগাড়ি |
| পরিণতি | মানসিক চাপ ও আত্মহনন |
এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।