খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসে আয়োজিত মর্যাদাবান এই অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি’অর জয়ী হন পিএসজির তারকা উসমান ডেম্বেল। সেই সময়ে রাফিনিয়া পঞ্চম স্থানে থাকায় অনেককে অবাক করেছিল। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি সোফাস্কোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাফিনিয়া বলেন, “আমি অন্তত শীর্ষ তিনে থাকব বলে আশা করেছিলাম। ফলাফল দেখে হতাশ হয়েছিলাম। সত্যি বলতে, নিজেকে প্রথম স্থানে রাখতাম।”
রাফিনিয়ার মতে, ব্যালন ডি’অরের মতো ব্যক্তিগত পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফলাফলের গুরুত্ব স্বীকারযোগ্য হলেও এটি কেবল একটি টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “পুরস্কার নির্ভর করা উচিত পুরো মৌসুমে যা করেছি, কোন ট্রফি জিতেছি এবং মাঠে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছি, সেইসবের ওপর। সেই অনুযায়ী আমি ব্যালন ডি’অরের যোগ্য ছিলাম।”
রাফিনিয়া গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৬ ম্যাচে ৩৪ গোল এবং ২৫টি অ্যাসিস্ট করেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্স বার্সেলোনাকে লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪ ম্যাচে ১৩ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট সত্ত্বেও বার্সেলোনা শেষ চারেই থামে পিএসজির কাছে। রাফিনিয়া স্বীকার করেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ না জেতা তার ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল।
রাফিনিয়ার মৌসুমের পরিসংখ্যান:
| প্রতিযোগিতা | ম্যাচ | গোল | অ্যাসিস্ট | ট্রফি |
|---|---|---|---|---|
| লা লিগা | ৩৬ | ২০ | ১৫ | জয় |
| কোপা দেল রে | ৮ | ৭ | ৪ | জয় |
| স্প্যানিশ সুপার কাপ | ২ | ১ | ২ | জয় |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ | ১৪ | ১৩ | ৯ | হারা শেষ চার |
রাফিনিয়ার মতে, যদি ব্যালন ডি’অরের তালিকা পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করতো, তাহলে তিনি সবার ওপরে থাকতেন। তিনি লামিনে ইয়ামালকে দ্বিতীয়, পেদ্রিকে তৃতীয় এবং ডেম্বেলেকে চতুর্থ স্থানে রাখতেন। তবে উসমান ডেম্বেল দলকে সমস্ত প্রতিযোগিতায় ৫৩ ম্যাচে ৩৫ গোল ও গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ট্রেবল জয় করানোর কারণে পুরস্কার জিতে নেন।
রাফিনিয়া ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কার না পেলেও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “পুরস্কার আমার মৌসুমের কাজকে মুছে দিতে পারবে না। আমি যা করেছি, তাতে আমি খুশি।”
এবারের ব্যালন ডি’অর বিতরণ দেখাল যে, ফুটবলের ব্যক্তিগত সম্মাননা অনেক সময় কেবল গোল বা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; দলগত সাফল্য ও টুর্নামেন্টের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাফিনিয়ার বক্তব্য এবং পরিসংখ্যান সমালোচকদেরও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, তার মৌসুমটি ব্যালন ডি’অরের জন্য যথেষ্ট যোগ্য ছিল।