খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক নেতা হেলাল উদ্দিন (৫৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। হেলাল উদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার রাতের দিকে হেলাল উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও শাবল দিয়ে তাঁর পিঠে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার সকাল ১০টায় চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, “হেলাল উদ্দিন একজন ত্যাগী ও সমাজসেবী নেতা ছিলেন। এমন নৃশংস ঘটনা আমাদের সকলের জন্য দুঃখজনক।”
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের গাজীপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব ফকির ইস্কান্দার আলম বলেন, “হেলাল উদ্দিনের হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও সাধারণ মানুষদের জন্য কাজ করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছাড়া নয়।”
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, নিহতের ভাতিজার সঙ্গে মুঠোফোন চুরি–সংক্রান্ত ঘটনায় ঘটনার আগের দিন তর্কবিতর্ক হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনা সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | হেলাল উদ্দিন |
| বয়স | ৫৫ বছর |
| রাজনৈতিক পরিচয় | কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক |
| মৃত্যুর তারিখ ও সময় | ১ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা |
| আহত হওয়ার স্থান | কোটবাজালিয়া, চাঁদপুর ইউনিয়ন, কাপাসিয়া |
| হামলাকারীর সংখ্যা | ৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | দেশীয় অস্ত্র ও শাবল |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| উন্নত চিকিৎসা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| তদন্তকারী সংস্থা | কাপাসিয়া থানা |
এই নৃশংস ঘটনায় স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।