খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর করবে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে তখন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এবার ওয়াশিংটনে সেই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করবে। তারা প্রথমে জাপান যাবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (BJEPA) স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ থেকে জাপানে ৭,৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, এবং জাপান থেকে বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্য একই সুবিধা পাবে।
| দেশ থেকে দেশ | শুল্কমুক্ত পণ্য সংখ্যা |
|---|---|
| বাংলাদেশ → জাপান | 7,379 |
| জাপান → বাংলাদেশ | 1,039 |
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ পেয়েছি। খসড়া চূড়ান্ত ও অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।” শুল্কহার নিয়ে তার মন্তব্য, “বর্তমানে ২০ শতাংশ হার নির্ধারিত আছে। কিছু দেশে এই হার সমান, আবার কিছু দেশে বেশি। আশা করছি চূড়ান্ত চুক্তিতে কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে ৯ ফেব্রুয়ারি আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।”
একই সাথে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, “আমরা তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। ভারতও এই খাতে শক্তিশালী। আমাদের কাঁচামালও অনেকাংশে তাদের কাছ থেকে আসে।”
এই চুক্তিগুলো বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই ধরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি দেশীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।