খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিষ্কৃত জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদের নামে থাকা দুটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট ও সংশ্লিষ্ট জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশ দেন আদালত দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) আবেদনের ভিত্তিতে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এই সম্পদ জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, শরীফ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা ঢাকার মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছেন। সেই ভবনের দুটি ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ফ্ল্যাটগুলোর সঙ্গে যুক্ত জমি হস্তান্তর বা বিক্রির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুদক আবেদন করেছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ স্থানান্তর বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা যাবে না। আদালত প্রাথমিকভাবে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফ্ল্যাট ও জমি জব্দের অনুমোদন দিয়েছে।
ফ্ল্যাট ও জমির আনুমানিক বাজারমূল্য নিম্নরূপ:
| সম্পদের ধরন | অবস্থান | আনুমানিক মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট (২টি) | মিরপুর, সেনপাড়া | 60,00,000 |
| ফ্ল্যাটের জমি | মিরপুর, সেনপাড়া | 15,79,458 |
মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়ে এই সম্পদ কোন প্রকার লেনদেন বা হস্তান্তরের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এই পদক্ষেপটি সম্পদের সঠিক হিসাব ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শরীফ মাহমুদ বহিষ্কৃত হলেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্য অনুসারে, কর্মকর্তার পরিবার ও সহযোগীরা একাধিক প্রপার্টিতে বিভিন্নভাবে সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন। আদালত এই জব্দ আদেশকে নিশ্চিত করেছে যেন ভবিষ্যতে কোনো প্রকার আর্থিক বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
দুদক কর্মকর্তা জানান, ফ্ল্যাট ও জমি জব্দের এই পদক্ষেপ দেশের সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তারা আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি করবে এবং দুর্নীতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শরীফ মাহমুদের সম্পদের পরিমাণ এবং জব্দকৃত ফ্ল্যাট ও জমি বিষয়টি এখন আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রয় বা অন্য কোনো ধরনের লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে না।