খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সম্প্রতি রয়টার্স, তাস নিউজ এজেন্সি এবং রুশ যুদ্ধ ব্লগার ‘ওয়ারগনজো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। মেদভেদেভ জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়া কখনোই কোনো বৈশ্বিক সংঘাত বা মহাযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা করে না, তবে বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
মেদভেদেভ মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব ক্রমান্বয়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, “বিশ্ব এখন খুবই বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধৈর্য বা ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে।” ২০২২ সালে ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এখন এক চূড়ান্ত স্নায়ুযুদ্ধের রূপ নিয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা পাগল নই যে নিজ থেকে কোনো বৈশ্বিক সংঘাত চাইব। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর উসকানিমূলক আচরণের কারণে একটি বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কথিত হুমকি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগকে ‘ভয়াবহ গল্প’ (Horror Stories) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ন্যাটোর পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় যে, উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীন তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। মেদভেদেভ এই দাবিকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, পশ্চিমা নেতারা তাদের নিজস্ব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সামরিক সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য রাশিয়া ও চীনের নাম ব্যবহার করে কাল্পনিক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করে আসছে। আর এই অবজ্ঞাই বর্তমান বিশ্বকে যুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
নিচে মেদভেদেভের সাক্ষাৎকার থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ধরণ | মেদভেদেভের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য |
| বিশ্ব পরিস্থিতি | অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা চরমে। |
| বৈশ্বিক সংঘাত | রাশিয়া এটি চায় না, তবে পশ্চিমা উসকানিতে এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। |
| গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক | রাশিয়া বা চীনের হুমকি একটি ‘সাজানো গল্প’ এবং পশ্চিমা অপপ্রচার। |
| পশ্চিমাদের ভূমিকা | রাশিয়ার স্বার্থকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা এবং যুদ্ধের উসকানি দেওয়া। |
| আর্কটিক রাজনীতি | পশ্চিমাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্য কাল্পনিক অজুহাত তৈরি করা। |
মেদভেদেভের এই কঠোর বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের হুমকি এবং বৈশ্বিক জোটগুলোর মধ্যে মেরুকরণ তীব্রতর হচ্ছে। রাশিয়ার এই সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করেন, পশ্চিমারা মুখে শান্তির কথা বললেও বাস্তবে তারা সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার নিরাপত্তা এবং স্বার্থকে যথাযথ মূল্যায়ন না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন।
বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পশ্চিমাদের একাধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে রাশিয়া সহজভাবে নেবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। মেদভেদেভের মতে, আটলান্টিক ঐক্যের নামে পশ্চিমারা আসলে বিশ্বজুড়ে নিজেদের একপেশে কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত একটি বড় ধরণের সংঘাতের বীজ বপন করছে।