খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের চলমান অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানে পুলিশ ক্যাডেটদের এক স্নাতক অনুষ্ঠানে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ কোনোভাবেই সাধারণ ইরানিদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।
খামেনি দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে বক্তব্য রাখেন এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর ভাষ্যে, পশ্চিমা শক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে নানামুখী চাপ প্রয়োগ করে আসছে—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা তারই অংশ। সাম্প্রতিক অস্থিরতা সেই ধারাবাহিক চক্রান্তের সর্বশেষ রূপ।
২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক ঘটনা, যা ইরানি সমাজকে শোকাহত করেছে। তবে তাঁর দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ হতে পারে না। তিনি বলেন, “শোককে পুঁজি করে সহিংসতা চালানো আসলে জনগণের আবেগকে অপব্যবহার করার শামিল।”
খামেনির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বহুদিন ধরেই এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, যার মাধ্যমে তারা ইরানের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক প্রচারণা এবং গোপন মদদের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভাষণ চলাকালে তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বিক্ষোভের নামে যারা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, ধর্মীয় ও পবিত্র স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল ঝুঁকিতে ফেলছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইরানের শত্রুদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে। বিপরীতে, দেশের সাধারণ মানুষ সবসময় রাষ্ট্রের সংহতি, স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতার পক্ষে রয়েছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে খামেনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। বিদেশি মদদে যারা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এই অস্থিরতা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও জাতীয় স্বার্থকে ব্যাহত করতে পারবে না।
নিচের সারণিতে খামেনির বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | খামেনির বক্তব্যের সারসংক্ষেপ |
|---|---|
| অস্থিরতার কারণ | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র |
| মাহসা আমিনির মৃত্যু | দুঃখজনক ঘটনা, তবে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় |
| বিক্ষোভের ধরন | স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বিদেশি মদদপুষ্ট |
| নিরাপত্তা বাহিনী | জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা |
| ভবিষ্যৎ অবস্থান | বিদেশি হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে দমন করা হবে |
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানি নেতৃত্ব আবারও স্পষ্ট করেছে যে, দেশটি তার সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো আপস করবে না এবং সব ধরনের বিদেশি চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।