খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর হাতে হাতুড়ি চালিয়ে হত্যার shocking ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন নাহিদা বেগম (৫০)। একই ঘটনায় তার ছেলে মহিবুল্লাহ ওস্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত নাহিদা ওই গ্রামের মৃত শরিফুল ওস্তার স্ত্রী। আহত মহিবুল্লাহ টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী কাদের ওস্তার সঙ্গে নাহিদার স্বামী শরিফুলের দীর্ঘদিনের জমি-বিবাদ ছিল। রোববার রাতে কাদেরের ছেলে কয়েকজন লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহিবুল্লাহর ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে হামলা চালায়। মহিবুল্লাহকে মারধর করা হলে তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন এবং এই সময় তার মা নাহিদা এগিয়ে আসেন।
হামলাকারীরা নাহিদাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। আহত মহিবুল্লাহকে বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুরুল কবীর বলেন, “রাত পৌনে ১০টার দিকে নাহিদাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মহিবুল্লাহ বর্তমানে অসুস্থ থাকায় এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে এলাকার পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | নাহিদা বেগম |
| বয়স | ৫০ বছর |
| নিহত হওয়ার সময় | রোববার রাত ৯:৩০ মিনিটের দিকে |
| আহত | মহিবুল্লাহ ওস্তা (ছেলে) |
| হামলার কারণ | জমি-সংক্রান্ত বিরোধ |
| হামলাকারী | কাদের ওস্তার ছেলে ও সহযোগীরা |
| হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া | গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল (নাহিদা), গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ (মহিবুল্লাহ) |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনাস্থল পরিদর্শন, মামলা এখনও দায়ের হয়নি |
স্থানীয়রা বলছেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে চলমান বিরোধেরই ফল। ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।