খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকৃতি ক্রমশ চরম রূপ ধারণ করছে। বানভাসি জমি, লবণাক্ত পানি প্রবেশে অরক্ষিত ধানক্ষেত, এবং ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত উপকূল—সবই বাংলাদেশের কৃষি ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশ্বে জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় হলেও, ‘জলবায়ু ঝুঁকি বীমা’ এখনও যথেষ্টভাবে ব্যবহার করা হয় না। প্রশ্নটি হলো, এই বীমা খাত কি দেশের জলবায়ু সহনশীলতার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায়—যেমন KOIKA, WFP, OXFAM—সাইক্লোন, বন্যা ও কৃষি ক্ষতির জন্য প্যারামেট্রিক স্কিম এবং ক্ষুদ্র বীমা পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে। তবে, বাস্তবতা চ্যালেঞ্জিং।
১. অ্যাকচুয়ারিয়াল চ্যালেঞ্জ
বীমা সংস্থাগুলো সাধারণত অতীতের তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকি নির্ধারণ করে। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অতীত তথ্য ভবিষ্যতকে নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
২. সামর্থ্য ও মূলধন সমস্যা
একই মৌসুমে দুর্যোগের একাধিক ঘটনার কারণে (খরা, শীতপ্রবাহ, সাইক্লোন, কৃষি ক্ষতি) বীমা সংস্থার মূলধন কাভার যথেষ্ট কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক পুনর্বীমার (reinsurance) প্রয়োজন হতে পারে।
৩. বিতরণ ও বিশ্বাসের ঘাটতি
বাংলাদেশে বীমার প্রবেশযোগ্যতা মাত্র ১% জিডিপি। গ্রামীণ এলাকায় বীমার ধারণা এখনও অপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাস কম।
বীমা খাতের প্রস্তুতি নির্ভর করবে তার মৌলিক পরিবর্তনের ইচ্ছাশক্তির উপর। তিনটি অংশীদারের সমন্বয় প্রয়োজন:
| অংশীদার | ভূমিকা |
|---|---|
| রাষ্ট্র | পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে বিনিয়োগ, প্রান্তিকদের জন্য প্রিমিয়াম subvension, পুনর্বীমার সুবিধা প্রদান, সবুজ বীমা পণ্যকে প্রণোদনা, জলবায়ু ঝুঁকি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা |
| বীমা শিল্প | প্রযুক্তি ব্যবহার, সহজ ও সাশ্রয়ী পণ্য তৈরি, ইনডেক্স ভিত্তিক কৃষি বীমা, পৌরসভাগুলির জন্য দুর্যোগ বন্ড, জলবায়ু-প্রভাবিত স্বাস্থ্য বীমা |
| আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় | ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে তহবিল সরবরাহ, জাতীয় জলবায়ু বীমা পুলকে মূলধন দেওয়া, উচ্চ প্রিমিয়াম হ্রাস, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষমতা বৃদ্ধি |
বাংলাদেশে ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ সম্ভব নয়। তবে পাইলট প্রকল্প থেকে শেখা, কৌশল মানিয়ে নেওয়া এবং ব্যাপক প্রচেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের প্রিমিয়াম শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ নয়, এটি সমষ্টিগত সহনশীলতার বিনিয়োগ।
পরবর্তী দুর্যোগ—যা অনিবার্য—ঘটলে জনগণ শুধু বেঁচে থাকবেন না, সম্মান ও দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বীমা খাতের পরিবর্তন অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন, সময়ের সঙ্গে অপেক্ষা করা যায় না।