খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা থেকে এই তথ্য জানিয়েছে। তিনি স্পর্শকাতরতা জনিত কারণে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানালেও জানান, বৈঠকটি তুরস্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে মার্কিন মধ্যস্থতাকারী ও ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
বৈঠকের আয়োজনের পেছনে রয়েছে মিশর, কাতার, তুরস্ক এবং ওমানের মধ্যস্থতা। এটি এমন সময়ে সম্ভাব্য হচ্ছে যখন তেহরান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, “হুমকি বন্ধ এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা এড়িয়ে চললে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সমতাভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি মীমাংসায় পৌঁছানোর বিষয়ে এখনও আশাবাদী। সোমবার তিনি বলেন, “কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।” তেহরান অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে, তবে কোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তারা বারবার জোর দিয়েছে যে আলোচনার বিষয় সীমাবদ্ধ থাকবে পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যন্ত; ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেছেন, “মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা যদি সমতাভিত্তিক ও সুষ্ঠু চুক্তির পথে অগ্রসর হন, তবে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
নিচের সারণি সম্ভাব্য বৈঠকের প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সম্ভাব্য তারিখ | আগামী শুক্রবার |
| স্থান | তুরস্ক |
| অংশগ্রহণকারী | মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা |
| মধ্যস্থতা | মিশর, কাতার, তুরস্ক, ওমান |
| আলোচনা সীমা | পারমাণবিক কার্যক্রম (ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা নয়) |
| ইরানের অবস্থান | সমতাভিত্তিক আলোচনা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | সুষ্ঠু চুক্তি আশা, মীমাংসায় আশাবাদী |
এই বৈঠক সম্ভাব্যভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও পারমাণবিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।