খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক মুঠোফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক এখন মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং বছরে সর্বাধিক ২০ হাজার টাকার ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন।
এর আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে মাসে ৬০০ টাকা ও বছরে ৩ হাজার টাকা। সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব)-এর আবেদন এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনায়।
এমটবের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার জানিয়েছেন, “মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা এখন মাসিক ৬০০ টাকার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার টকটাইম ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩টি সরকারি সেবা যেমন নাগরিকত্ব, জাতীয়তা, মৃত্যু, বিবাহ ও এতিম সনদ এবং নতুন ভোটার যাচাইসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ওটিটি ও বিনোদনমূলক সেবা।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর আওতায় ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত, ৩০ জুন পর্যন্ত অপারেটররা সাময়িকভাবে ডিওবি পরিচালনা করতে পারবে।
ডিওবি পরিচালনার ক্ষেত্রে মুঠোফোন অপারেটরদের মানতে হবে কয়েকটি শর্ত:
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুসরণ।
কেবল মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পণ্য বা সেবা বিক্রি।
মুঠোফোন অপারেটরের নিজস্ব পণ্য/সেবা ব্যবহার বিবেচনা।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ভার্চুয়াল কারেন্সি, জুয়া, ক্রিপ্টো, লটারি, ফরেক্স বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং নিষিদ্ধ।
বিদেশি মুদ্রায় রেমিট্যান্স প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন।
ডিজিটাল পণ্যের ডেলিভারি, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রিফান্ড নীতি নিশ্চিত করা।
নিচের টেবিলে সীমার বিস্তারিত দেখানো হলো:
| ক্রম | সীমার ধরন | পূর্বের সীমা | নতুন সীমা |
|---|---|---|---|
| ১ | মাসিক | ৬০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
| ২ | বার্ষিক | ৩,০০০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
নতুন নীতিমালা প্রণয়ন হলে ডিওবি পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে। এটি ডিজিটাল ইকোনমিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে এবং মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য আরও সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।