শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাবিত হওয়া তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল শিক্ষার্থীরা বিশেষ বীমা সুবিধা পাবে। এই সুবিধা প্রয়োগ করা হবে সরকার পরিচালিত সুরক্ষা শিশূ (Suraksha Sisu) বীমা প্রোগ্রামের আওতায়, যা দেশের প্রায় ৪ মিলিয়ন স্কুল শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুরক্ষা প্রদান করে।
সুরক্ষা শিশূ বীমা, যা শ্রীলঙ্কা ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন জেনারেল কর্তৃক পরিচালিত, একটি সম্পূর্ণ সরকার-অর্থায়িত বিনামূল্য বীমা পরিকল্পনা। ২০১৭ সালে চালু হওয়া এই প্রোগ্রামটি সম্প্রতি ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আরও উন্নত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা জরুরি অবস্থায় বা পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া থেকে রক্ষা করা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই বীমার আওতায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবক হারানো শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে, সাধারণ আয়ের সীমা আর প্রয়োগ করা হবে না, তবে লঙ্ঘনের সত্যতা নিশ্চিতকারী প্রমাণপত্র দাখিল আবশ্যক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বীমা কোম্পানি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সৃষ্ট দুর্ঘটনার কারণে চিকিৎসা, ওষুধ ক্রয় এবং পরীক্ষার খরচের জন্য সর্বোচ্চ LKR 20,000 (প্রায় $64.65) পর্যন্ত বাহ্যিক চিকিৎসা সুবিধা অনুমোদন করেছে।
নিচের টেবিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বীমা সুবিধার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| সুবিধার ধরন | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| বীমা প্রোগ্রাম | সুরক্ষা শিশূ (Suraksha Sisu) |
| পরিচালন সংস্থা | শ্রীলঙ্কা ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন জেনারেল |
| লক্ষ্য গ্রুপ | প্রায় ৪ মিলিয়ন স্কুল শিক্ষার্থী |
| সুবিধার আওতায় মৃত্যু | পিতামাতা/অভিভাবক হারানো শিক্ষার্থীদের জন্য আয়ের সীমা ছাড়া সুবিধা প্রদান |
| চিকিৎসা খরচ সুবিধা | সর্বোচ্চ LKR 20,000 (ওষুধ, পরীক্ষা, চিকিৎসা) |
| কার্যকর হওয়া শিক্ষা বছর | ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষ |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সরকারি বীমা কর্মসূচি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষা সচিব জানান, “যে কোনো বিপর্যয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত করতে পারবে না, এবং সুরক্ষা শিশূ বীমা সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করছে।”
এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপর আর্থিক চাপ কমাবে। আগামী মাসগুলোতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বীমা দাবি প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানেরও পরিকল্পনা করছে।



