খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৯৮২ সালে বোকা জুনিয়র্স থেকে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া দিয়েগো ম্যারাডোনা ক্লাবে কাটিয়েছিলেন দুই বছর। এই সময়ে তিনি ৫৮টি ম্যাচে ৩৮টি গোল করেছিলেন। ২১ বছর বয়সে বার্সেলোনায় এসে ম্যারাডোনা নিজের ক্রীড়া প্রতিভা বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, তবে ক্লাবের সঙ্গে তার সময় ছিল সংক্ষিপ্ত।
১৯৮২-১৯৮৪ সালের দুই বছরের অম্ল-মধুর সময় পার হওয়ার পর, আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ডে নাপোলিতে যোগ দেন। নাপোলিতে সাত বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ক্লাবকে উপহার দেন ২টি সিরি আ, ১টি উইয়েফা কাপ এবং একাধিক শিরোপা। সেখানে ম্যারাডোনার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৭।
এবার স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ম্যারাডোনার বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের একাংশকে ছুঁয়ে গেছেন। কোপা দেল রে’তে বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামাল যেভাবে গোল করেছেন, তাতে তিনি ম্যারাডোনার বার্সার গোল রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।
ইয়ামাল ২০২৩ সালে বার্সেলোনার মূল দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯টি গোল করেছেন। যদিও ম্যারাডোনা ৫৮ ম্যাচে ৩৮টি গোল করেছিলেন, ইয়ামালকে এই ৩৯টি গোল করতে হয়েছে ১৩৫ ম্যাচ।
নিচের টেবিলে ইয়ামাল এবং ম্যারাডোনার বার্সেলোনা গোল তুলনা দেওয়া হলো:
| খেলোয়াড় | বার্সেলোনা জয়কালীন সময় | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা | লক্ষ্য অর্জনের গড় (ম্যাচ প্রতি গোল) |
|---|---|---|---|---|
| দিয়েগো ম্যারাডোনা | ১৯৮২–১৯৮৪ | ৫৮ | ৩৮ | 0.66 |
| লামিন ইয়ামাল | ২০২৩–বর্তমান | ১৩৫ | ৩৯ | 0.29 |
ইয়ামালের গোলগুলি সব প্রতিযোগিতায় বিতরণ হয়েছে এভাবে: ৯১টি লা লিগা ম্যাচে ২৩ গোল, ৯টি কোপা দেল রে ম্যাচে ৫ গোল, এবং ২৯টি ইউরোপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) ম্যাচে ৮ গোল।
গত বুধবার কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩৯তম মিনিটে ইয়ামাল ‘ডেডলক’ ভাঙেন। পরে রোনাল্ড আরাউহো আরও একটি গোল করেন এবং বার্সেলোনা ২-১ গোলে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বার্সা কোপা দেল রের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা ইয়ামাল ও আরাউহোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,
“ইয়ামাল একজন জাদুকর। তাঁর পা থেকে ম্যাচের প্রথম গোল আসে। তবে আমি বিশেষভাবে খুশি আরাউহোর জন্য। সে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছে এবং ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ খেলে গেছে। আমাদের অধিনায়কের ফেরা সত্যিই প্রশান্তি দিয়েছে।”
এই রেকর্ডের মাধ্যমে ইয়ামাল স্প্যানিশ ক্লাবে তার প্রতিভা প্রমাণ করেছেন এবং ম্যারাডোনার সোনালী অধ্যায়কে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াপ্রেমীদের সামনে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছেন।