খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড় এনদ্রিক ফেলিপের পথচলা একেবারে স্বপ্নের মতো। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার বাইসাইকেল কিকে লক্ষ্য করে ফুটবলের প্রতি আগ্রহের সূচনা হয়। পালমেইরাস ক্লাবের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবা ডগলাস সুসার সামাজিক মাধ্যমে ছেলে এনদ্রিকের খেলার ভিডিও শেয়ার করতেন। সেই ছোট্ট প্রচেষ্টা ব্রাজিলীয় ফুটবল দুনিয়ায় নজর কাড়ে এবং এনদ্রিককে পালমেইরাসের বয়সভিত্তিক দলে খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, মাত্র ১১ বছর বয়সে।
পালমেইরাসে যোগ দেওয়ার পরই এনদ্রিক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘বিস্ময় বালক’ হিসেবে পরিচিত হন। পাঁচ বছরের মধ্যে দেড় শতাধিক গোলের মাধ্যমে তিনি মূল দলে জায়গা করে নেন এবং ক্লাবের ১০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেন। পূর্বে এই রেকর্ডে ছিলেন হেইটর, যিনি ১৯১৬ সালে ১৬ বছর ১১ মাস বয়সে গোল করেছিলেন। এনদ্রিক ২০২২ সালে মাত্র ১৬ বছর ৩ মাস বয়সে প্যারানায়েন্সের বিপক্ষে গোল করে ইতিহাস রচনা করেন।
| পর্যায় | বয়স | গোল | দল |
|---|---|---|---|
| বয়সভিত্তিক দল | 11 | ন/দ | পালমেইরাস |
| মূল দলে অভিষেক | 16 | প্রথম গোল | পালমেইরাস |
| রেকর্ড ভঙ্গ | 16 | ১ | পালমেইরাস |
পালমেইরাস তাকে ৪০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ধরে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে পিএসজির চেষ্টার পরেও ইউরোপের সফলতম ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ৬৩.৬ মিলিয়ন ইউরোতে তার অধিকার ক্রয় করে। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই তিনি রিয়ালে যোগ দিতে পারেন। যোগদানের আগে এনদ্রিক ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক করেন, ১৯৯৪ সালে রোনালদোর পরে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে।
রিয়াল মাদ্রিদে তার শুরুটা প্রতীক্ষিত চ্যালেঞ্জের মতো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও বেলিংহ্যামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় একাদশে স্থায়ী জায়গা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তিনি প্রধানত বেঞ্চে থেকে খেলেন, যা তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে কিছুটা চাপের মধ্যে ফেলে।
এই অবস্থান থেকে নিজেকে প্রমাণ করতে এনদ্রিক লিওঁ ক্লাবে ধারাভাষ্য ভিত্তিক ধারায় যোগ দেন। ফরাসি লিগে যোগ দেওয়ার পর তিনি নতুন প্রাণ ফিরে পান। পাঁচ ম্যাচে ৫ গোল এবং একটি হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দলকে নেতৃত্ব দেন। দ্রুতগতির ড্রিবল, নিখুঁত ফিনিশিং এবং চাপের মুখে ঠাণ্ডা থাকা—সব মিলিয়ে তিনি অলিম্পিক লিওঁর আক্রমণের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের মতে, এখন তিনি ‘লিওঁর নতুন রাজা’।
লিওঁতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি আবারও ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের নজরে আসছেন। ফর্মের ভিত্তিতেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জায়গা পাওয়া সম্ভব। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে আসন্ন বিশ্বকাপে এনদ্রিকের ব্রাজিল স্কোয়াডে থাকা কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা।