খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে মাঘ ১৪৩২ | ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে নিলামের আগেই বাংলাদেশের তারকা বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর লাহোর কালান্দার্সের মালিক সামিন রানা এক ভিডিও বার্তায় মোস্তাফিজকে দলে পাওয়ার আনন্দ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—বিশ্ব ক্রিকেটে মোস্তাফিজ কেবল একজন কার্যকর বোলারই নন, বরং নির্ভরতার প্রতীক।
সামিন রানা বলেন, মোস্তাফিজ বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত এক নাম, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর কাটার ও ডেথ ওভারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এমন একজন ক্রিকেটারকে দলে পাওয়া লাহোর কালান্দার্সের জন্য গৌরবের বিষয়। তিনি আবেগ প্রকাশ করে জানান, মোস্তাফিজকে ঘিরে তাঁদের প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে। দল ব্যবস্থাপনার বিশ্বাস, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের রানের গতি রোধ করা এবং উইকেট এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোস্তাফিজ বড় ভূমিকা রাখবেন।
চুক্তির আর্থিক দিকও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। জানা গেছে, মোস্তাফিজের সঙ্গে লাহোর কালান্দার্সের চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি ৮১ লাখ টাকারও বেশি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দলটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—শিরোপার লড়াইয়ে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানের বোলারকে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
লাহোর কালান্দার্স কর্তৃপক্ষ মোস্তাফিজের দলে ফেরা প্রসঙ্গকে ‘পরিবারে প্রত্যাবর্তন’ হিসেবেই দেখছে। সামিন রানা স্মরণ করিয়ে দেন, পিএসএলের সূচনালগ্নে গোল্ড ক্যাটাগরিতে প্রথম দিকেই মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় এনওসি-সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি আসতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি কালান্দার্সের হয়ে খেলেন এবং তখন তাঁর পারফরম্যান্স দলকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় আবারও তাঁকে দলে ফেরানো হয়েছে।
এবার মোস্তাফিজের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এই জুটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সামিন বলেন, নতুন বলে শাহিনের গতি ও সুইংয়ের সঙ্গে মিডল ও ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের কাটার ও বৈচিত্র্য মিললে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর বড় চাপ তৈরি হবে। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে এই দুই পেসারের সম্মিলিত প্রভাব কালান্দার্সের শক্তি বাড়াবে বলে বিশ্বাস দলটির।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব ও মানসিকতারও প্রশংসা করেন সামিন রানা। তাঁর ভাষায়, মাঠের ভেতরে যেমন তারা লড়াকু, মাঠের বাইরে তেমনি মানবিক ও সহজ যোগাযোগযোগ্য। পূর্বে মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও রিশাদ হোসেনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ইতিবাচক স্মৃতি হয়ে আছে। দল ব্যবস্থাপনার মতে, বাংলাদেশ থেকে আসা ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিজেদের দলের মতোই গুরুত্ব দেন, যা দলীয় সংস্কৃতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খেলোয়াড় | মোস্তাফিজুর রহমান |
| দল | লাহোর কালান্দার্স |
| টুর্নামেন্ট | পাকিস্তান সুপার লিগ |
| চুক্তিমূল্য | ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি |
| বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক মূল্য | ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি |
| সম্ভাব্য বোলিং জুটি | শাহিন শাহ আফ্রিদি |
সবশেষে সামিন রানা আবেগঘন কণ্ঠে জানান, মোস্তাফিজকে দলে পেয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দিত। তাঁর মতে, দলের লক্ষ্য কেবল ভালো পারফরম্যান্স নয়; খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাস ও সম্পর্ক গড়ে তোলা। সেই বিশ্বাস থেকেই মোস্তাফিজকে আবার লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে দেখার অপেক্ষায় আছে পুরো দল ও সমর্থকগোষ্ঠী।