খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি খেলাপি ঋণ আদায়ে ২০২৫ সালে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং খেলাপি সংস্কৃতি রোধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটি এক বছরেই তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩,৫৮৪ কোটি টাকা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই বিশাল অংকের পুনরুদ্ধারের ফলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত যেমন মজবুত হয়েছে, তেমনি আমানতকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২,০০২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪০.৪৯ শতাংশ। তবে ২০২৫ সাল শেষে এই অংক ২৮,৬১৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা বর্তমানে মোট ঋণের ৩৫.৫২ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
নিচে অগ্রণী ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনামূলক আর্থিক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সূচক (Financial Indicators) | ২০২৪ সাল (কোটি টাকা) | ২০২৫ সাল (কোটি টাকা) | পরিবর্তন (কোটি টাকা) |
| মোট খেলাপি ঋণ | ৩২,০০২ | ২৮,৬১৬ | ৩,৫৮৪ (হ্রাস) |
| খেলাপি ঋণের হার (%) | ৪০.৪৯% | ৩৫.৫২% | ৪.৯৭% (হ্রাস) |
| মোট আমানত | ৯৯,২৩২ | ১১৩,০৬৪ | ১৩,৮৩২ (বৃদ্ধি) |
| মোট ঋণ ও অগ্রিম | ৭৯,০৩৭ | ৮০,৫৭৩ | ১,৫৩৬ (বৃদ্ধি) |
| পরিচালনা মুনাফা | ১,৫১১ | ২,৫০২ | ৯৯১ (বৃদ্ধি) |
| রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় | ২১,০৩৩ | ৩৩,৯৬১ | ১২,৯২৮ (বৃদ্ধি) |
২০২৫ সালে অগ্রণী ব্যাংক তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিচালনা মুনাফা অর্জন করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২,৫০২ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। এই মুনাফার নেপথ্যে ছিল খেলাপি ঋণ আদায়ে আক্রমণাত্মক কৌশল। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র ১,৭২৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০,২৩৪ কোটি টাকায়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তথ্যমতে, এই আদায়ের মধ্যে ১,০০৯ কোটি টাকা সরাসরি নগদ আদায় হয়েছে। এছাড়া রেশিডিউলিং বা পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে ৮,৩৬৮ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত (Written-off) ঋণ থেকে ৯৩৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে অগ্রণী ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ৩৩,৯৬১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১২,৯২৮ কোটি টাকা বেশি। আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ব্যাংকটির অবস্থান ছিল শক্তিশালী; বছর শেষে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪,৩৬৭ কোটি টাকায়। তবে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাবে রপ্তানি আয় সামান্য হ্রাস পেয়ে ১৩,২৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাপি ঋণ কমাতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছি, যার সুফল এখন দৃশ্যমান। ২০২৬ সালের জন্য আমরা ১২,২০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।” গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসারের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক আগামী দিনে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।