খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের তলানির লড়াই এখন চরম উত্তেজনায়। বিশেষ করে বার্নলি ফুটবল ক্লাবের জন্য সময়টা বড্ড নিষ্ঠুর। গত মৌসুমে দাপটের সাথে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রমোশন পেয়ে প্রিমিয়ার লিগে এলেও, এক বছরের মাথায় আবারও অবনমনের (Relegation) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্লাবটি। আগামী শনিবার ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ‘ বাঁচা-মরার’ লড়াই। তবে টানা ১৫ ম্যাচে জয়হীন থাকার পর বার্নলি সমর্থকদের মধ্যে এখন এক অদ্ভুত মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে—কেউ প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার আশা ছাড়েননি, আবার কেউ অপেক্ষায় আছেন চ্যাম্পিয়নশিপের সেই চেনা লড়াইয়ের।
২৪ ম্যাচ শেষে বার্নলির সংগ্রহ মাত্র ১৫ পয়েন্ট। নিরাপদ অবস্থানের (১৭তম স্থান) চেয়ে তারা এখন ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। চলতি মৌসুমে ২৪ ম্যাচের মধ্যে তারা জয় পেয়েছে মাত্র ৩টিতে। মজার ব্যাপার হলো, এই তিনটি জয়ই এসেছে টেবিলের তলানির দলগুলোর বিপক্ষে। রক্ষনাত্মক ফুটবল এবং গোল করার অক্ষমতা দলটিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের রেলিগেশন জোনের বর্তমান অবস্থা:
| অবস্থান | দল | ম্যাচ | গোল ব্যবধান | পয়েন্ট |
| ১৬ | লিডস ইউনাইটেড | ২৪ | -১১ | ২৬ |
| ১৭ | নটিংহাম ফরেস্ট | ২৪ | -১১ | ২৬ |
| ১৮ | ওয়েস্ট হ্যাম | ২৪ | -১৯ | ২০ |
| ১৯ | বার্নলি | ২৪ | -২২ | ১৫ |
| ২০ | উলভারহ্যাম্পটন | ২৪ | -৩০ | ৮ |
ম্যানেজার স্কট পার্কারের অধীনে বার্নলির ফুটবল শৈলী নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত মৌসুমে ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে দল যেভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ১০০ পয়েন্ট অর্জন করেছিল, পার্কারের কৌশল তার ঠিক উল্টো—অত্যধিক রক্ষণাত্মক ও ধীরগতির। গত চার ম্যাচে বার্নলি প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি। গত সোমবার সান্ডারল্যান্ডের কাছে হারের পর সমর্থকরা সরাসরি ম্যানেজারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সামনে ‘পার্কার আউট’ পোস্টারও দেখা গেছে।
বার্নলি সমর্থকদের কাছে শন ডাইচ ছিলেন এক আবেগের নাম। তাঁর অধীনে বার্নলি টানা পাঁচ মৌসুম প্রিমিয়ার লিগে ছিল এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাতেও জায়গা করে নিয়েছিল। ডাইচের সময় বার্নলি ম্যানচেস্টার সিটি বা লিভারপুলের মতো জায়ান্টদের রুখে দিত। বর্তমান বার্নলি সেই লড়াকু মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করেন সাধারণ সমর্থকরা। দীর্ঘদিনের সিজন টিকিট হোল্ডার মার্ক বেন্টলি বলেন, “আগে দল হারলেও লড়াইটা দেখা যেত, এখন খেলা দেখাটা একঘেয়েমি আর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অনেক সমর্থক মনে করেন, প্রিমিয়ার লিগে প্রতি সপ্তাহে বিধ্বস্ত হওয়ার চেয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে জয় পাওয়া অনেক বেশি আনন্দের। সেখানে লড়াইটা সমানে সমান হয় এবং জয়ের হার বেশি থাকে। বেন্টলির মতে, “আমি চ্যাম্পিয়নশিপ উপভোগ করি। সেখানে জয়ের আনন্দ আছে, উদযাপনের সুযোগ আছে। প্রিমিয়ার লিগে আমরা বড় দলগুলোর সামনে কেবল অসহায় আত্মসমর্পণ করছি।” তবে বিশ্বসেরা লিগে টিকে থাকার গৌরবও কম নয়। প্যাডি নামের এক সমর্থক জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘুরতে গিয়েও যখন কেউ তাঁর বার্নলি শার্ট দেখে দলকে শুভকামনা জানায়, তখন তিনি এক ধরণের আভিজাত্য বোধ করেন।
জানুয়ারি উইন্ডোতে বার্নলি কেবল জেমস ওয়ার্ড-প্রোসকে ধারে দলে নিয়েছে। কিন্তু দলের মূল সমস্যা—স্ট্রাইকিং পজিশন—অপূরণীয়ই রয়ে গেছে। জেইডন অ্যান্থনি এবং জিয়ান ফ্লেমিং এখন পর্যন্ত দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫টি গোল), যা প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। যদি এই মৌসুমে অবনমন ঘটে, তবে বার্নলিকে আবারও ৪৬ ম্যাচের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমের মুখোমুখি হতে হবে।
বার্নলির সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—পয়েন্ট টেবিলের ২০তম স্থান এড়িয়ে অন্তত ১৯তম অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করা এবং ইতিহাসের সর্বনিম্ন পয়েন্টের রেকর্ড থেকে মুক্তি পাওয়া। শেষ ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে লড়াইটি হয়তো নির্ধারণ করবে তারা কতটুকু মর্যাদা নিয়ে লিগ থেকে বিদায় নিচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, বার্নলির সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় ক্লাবের সাথেই আছেন—হোক সেটি প্রিমিয়ার লিগের গ্ল্যামার অথবা চ্যাম্পিয়নশিপের কাদা-মাখা লড়াই।