খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের অমর কণ্ঠ এবং গিটার জাদুকর আয়ুব বাচ্চুকে ২০২৬ সালের একুশে পদকে পোস্টহিউমাস সম্মান জানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর অকস্মাৎ প্রয়াণের সাত বছর পর এই পদক তার অসামান্য সঙ্গীত অবদানের জন্য রাষ্ট্রের তরফে দেওয়া হলো। আয়ুব বাচ্চু শুধু একজন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন না; তিনি বাংলার রক ও ব্যান্ড সঙ্গীতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতীক।
তার মৃত্যু বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে একটি বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল, যা এখনও পূর্ণ হয়নি। সঙ্গীতপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে আশা করছিলেন যে, আয়ুব বাচ্চুর এই অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হবে। দেরিতে হলেও এই পদক তাঁকে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি চিরস্থায়ী মর্যাদা প্রদান করেছে।
আয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই সম্মান আমাদের জন্য গর্বের এবং একই সঙ্গে শোকের। আয়ুব বেঁচে থাকলে নিজ হাতে পদক গ্রহণ করতেন, যা তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হতো। তবু দেরিতে হলেও রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি তার সঙ্গীত জীবনের অনন্য সম্মান।”
আয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীত শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এটি প্রেম, সংগ্রাম, প্রতিবাদ ও আশা-ভিত্তিক বার্তা বহন করে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন তার এই উত্তরাধিকার সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। ফাউন্ডেশন নতুন প্রতিভা তৈরি, সঙ্গীত চর্চা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তার ব্যান্ড LRB পদক প্রাপ্তিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলা রক সঙ্গীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছে। আয়ুব বাচ্চুর সৃজনশীলতা ও গিটার দক্ষতা নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতজ্ঞদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
আয়ুব বাচ্চুর জীবন ও সঙ্গীতকর্মের সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিভাগ | তথ্য |
|---|---|
| সম্পূর্ণ নাম | আয়ুব বাচ্চু |
| জন্ম তারিখ | ১৬ আগস্ট ১৯৬২ |
| মৃত্যু তারিখ | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ |
| পেশা | সঙ্গীতজ্ঞ, গিটারিস্ট, সুরকার |
| ব্যান্ড | LRB |
| সঙ্গীত শৈলী | রক, হার্ড রক |
| রাষ্ট্রীয় সম্মান | একুশে পদক (পোস্টহিউমাস) |
২০২৬ সালের একুশে পদক তালিকায় আরেকটি ব্যান্ডকে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের ব্যান্ড সঙ্গীতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রমাণ। আয়ুব বাচ্চুর নাম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি চিরস্থায়ী মাইলফলক। যদিও তিনি শারীরিকভাবে আর আমাদের মধ্যে নেই, তার গান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।