খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে গণমাধ্যমকর্মীরা। গত শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় একাধিক সাংবাদিককে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের অনতিবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় পুলিশের সকল অনুষ্ঠান ও সংবাদ সংগ্রহ বয়কট করার মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) ও ঢাকায় কর্মরত সাধারণ সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকরা গত শুক্রবারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন দৈনিক যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু সালেহ মূসা। তিনি জানান, পুলিশ যখন ফুটপাতে থাকা সাধারণ পথচারীদের নির্বিচারে পেটাচ্ছিল, তখন তিনি ঘটনার সত্যতা তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভে ছিলেন। এ সময় লাইভ চলাকালেই এক পুলিশ সদস্য সরাসরি তাঁর ওপর হামলা চালায়। ফোন পড়ে যাওয়ার পর সেটি তুলতে গেলে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য মিলে তাঁকে পেছন থেকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।
এমআরএ-র দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী সেই সংঘর্ষে পুলিশের মারমুখী আচরণে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে অন্তত ২০ জনের বেশি সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও পুলিশ সদস্যরা গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
শাহবাগে সাংবাদিক নিগ্রহের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান:
| তথ্য ও ঘটনার বিবরণ | পরিসংখ্যান/বিবরণ |
| আহত সাংবাদিকের সংখ্যা | ২০ জনের বেশি |
| হামলাকারী পক্ষ | ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মাঠ পর্যায়ের সদস্য |
| আক্রান্ত গণমাধ্যম | যুগান্তর, যমুনা টিভি, এটিএন বাংলাসহ একাধিক মাল্টিমিডিয়া আউটলেট |
| হামলার ধরন | লাঠিচার্জ, অকথ্য গালিগালাজ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষতি |
| প্রতিবাদী সংগঠন | মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) |
মানববন্ধনে এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিবেদক আলী আজগর পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বিশ্বের কোথাও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের এভাবে অহেতুক মারধর করা হয় না। পুলিশের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা জাতির কাছ থেকে কোনো বড় অপরাধ লুকাতে চাইছে। এই গোপন করার প্রবণতাই সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে চাওয়ার মূল কারণ।”
বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক কেফায়েত শাকিল বলেন, “একজন সাংবাদিককে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া মানে কেবল তাকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা নয়; এটি দেশের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তিকে ল্যাং মারার শামিল।” তিনি এ সময় তথ্য উপদেষ্টার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা ঘোষণা করেন যে, গণমাধ্যমের ওপর এই নগ্ন হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ যদি তাঁদের সদস্যদের নিয়ন্ত্রন না করে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে আগামীতে পুলিশের কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করবে না সাংবাদিক সমাজ। মুক্ত গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।