খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্প্যানিশ ফুটবল জায়ান্ট বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় সুপার লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে। শনিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা সুপার লিগ কম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর কাছে লিখিতভাবে তাদের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সুপার লিগ প্রকল্প আরেকটি বড় ধাক্কা খেল।
২০২১ সালে ইউরোপের ১২টি শীর্ষ ক্লাব এই লিগে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ফুটবল ভক্তদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভের মুখে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’—আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহাম হটস্পার—দ্রুতই সরে দাঁড়ায়। পরে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান এবং জুভেন্টাসও এই উদ্যোগ থেকে সরে যায়। ফলে দীর্ঘদিন কেবল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাই সুপার লিগের মুখ হিসেবে থেকে যায়।
বার্সেলোনার সরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উয়েফা ও ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশন (ইএফসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইচ্ছা। ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি উয়েফার সঙ্গে আবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার পথে হাঁটতে চান। অক্টোবর ২০২৫-এ রোমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সেই পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেন লাপোর্তা। বার্সেলোনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় এবং ইউরোপীয় ফুটবলের কাঠামোর ভেতরে থেকেই কাজ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
২০২৪ সালে সুপার লিগের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এ-২২ স্পোর্টস ‘ইউনিফাই লিগ’ নামে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে। তারা উয়েফা ও ফিফার কাছে নতুন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের অধিকার স্বীকৃতির আবেদনও করে। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় আদালত এক রায়ে জানায়, নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে উয়েফা ও ফিফার বিধিনিষেধ ‘আধিপত্যের অপব্যবহার’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাট—৩৬ দলের ‘সুইস মডেল’ লিগ এবং রাজস্ব বণ্টনের পরিবর্তন—বেশিরভাগ ক্লাবের কাছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। ফলে সুপার লিগ বা ইউনিফাই লিগের প্রতি আগ্রহ আরো কমে যায়।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের সম্পর্কও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ‘নেগ্রেইরা কেস’-এ রিয়াল বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্পেনের রেফারিদের কমিশনের এক সাবেক কর্মকর্তাকে বার্সেলোনার অর্থপ্রদানের বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
নিচের টেবিলটি ইউরোপীয় সুপার লিগে অংশগ্রহণকারী প্রধান ক্লাবগুলোর বর্তমান অবস্থান দেখায়:
| ক্লাবের নাম | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| রিয়াল মাদ্রিদ | টিকে আছে | একমাত্র ক্লাব যিনি এখনও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত |
| বার্সেলোনা | সরে দাঁড়িয়েছে | উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনার জন্য |
| আতলেতিকো মাদ্রিদ | সরে দাঁড়িয়েছে | ২০২১ সালের পরে প্রকল্প ত্যাগ করেছে |
| জুভেন্টাস | সরে দাঁড়িয়েছে | নতুন ফরম্যাট ও আইনগত জটিলতার কারণে |
| এসি মিলান | সরে দাঁড়িয়েছে | নতুন ইউরোপীয় লিগে অংশ নেবে না |
| ইন্টার মিলান | সরে দাঁড়িয়েছে | প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণে |
| আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহাম | সরে দাঁড়িয়েছে | প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার পরে প্রত্যাহার |
বার্সেলোনার এই পদক্ষেপ কার্যত সুপার লিগকে প্রজন্মের অন্যতম বিতর্কিত উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে দাঁড় করালো, আর রিয়াল মাদ্রিদ এখন একাকী রয়ে গেল।