খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা নির্ধারণমূলক হতে চলেছে। অনলাইন ও অফলাইনে নির্বাচনী আড্ডা, তর্ক ও আলোচনায় তরুণরা সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন, আবার কিছু তরুণ নিজেও প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। বিশেষত যাঁরা প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন, তাঁরা এ নির্বাচনকে দায়িত্ব ও নাগরিক কর্তব্য হিসেবে উপলব্ধি করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী অর্পা বড়ুয়া বলেন, “ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার কাছে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শঙ্কা আছে, তবু এটি এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে অংশগ্রহণের সুযোগ।”
প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন ২০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে দেখা গেছে: ৮ জন ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাকি ১২ জন এখনো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান প্রভাব ফ্যাক্টরগুলো হলো—সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধু ও সহপাঠীর পরামর্শ, পরিবার এবং প্রার্থীর কার্যক্রম ও নীতিমালা।
| বিশ্ববিদ্যালয় | শিক্ষার্থী | ভোটের সিদ্ধান্ত | প্রভাবের প্রধান উৎস |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় | অর্পা বড়ুয়া | পর্যবেক্ষণাধীন | দায়িত্ববোধ, নিরাপত্তা চিন্তা |
| জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | মাহবুবুল হাসান | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা |
| নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি | সুরাইয়া সাফিয়া | পর্যবেক্ষণাধীন | সোশ্যাল মিডিয়া, শিক্ষকের পরামর্শ |
| কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি | নুসরাত জাহান | পর্যবেক্ষণাধীন | তথ্য যাচাই ও নিজের বিচারবুদ্ধি |
| হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় | জান্নাতুল ফেরদৌস | পর্যবেক্ষণাধীন | পিতামাতার পরামর্শ |
| বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস ও টেকনোলজি | জাহিদ হোসেন | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | প্রার্থী ও দলের কার্যক্রম |
তরুণরা প্রার্থী নির্বাচনকালে মূলত ব্যক্তির যোগ্যতা, সততা ও কার্যকরী রেকর্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও দলের আদর্শ বা মার্কারও বিবেচনায় আসে, কিন্তু বহু শিক্ষার্থী মনে করছেন, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচিত হলে দেশ ও সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উসমান গনি উল্লেখ করেন, “নির্বাচন শুধুমাত্র পরিবর্তন আনার উপায় নয়। সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কার না হলে নির্বাচনের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। অবকাঠামো পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিবর্তন জরুরি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতিন নাওয়াল ও চট্টগ্রামের মায়মুনা শারমিনের মত, ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, যদি দায়িত্বশীল ও সচেতন ভোটার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তরুণ ভোটারদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যতের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে।