বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব আবারও আইনি জটিলতায় পড়ে কারাগারে গেছেন। চেক বাউন্স ও ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তার দায়ের করা অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তাকে তিহার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এবং ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবের আবেদন নাকচ করেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজেই তিহার জেলে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল চারটার দিকে তিনি কারা প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং এরপর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তার পরিচয় যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারির আদেশে আদালত তাকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কারাগারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তার আইনজীবী আদালতে আবেদন করে আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রাজপাল যাদব ইতোমধ্যে ৫০ লাখ রুপি জোগাড় করেছেন, কিন্তু পুরো অর্থ পরিশোধে সামান্য সময়ের প্রয়োজন। বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা এ আবেদন খারিজ করে স্পষ্টভাবে বলেন, সময় বাড়ানোর পক্ষে কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং আদালতের আদেশ অমান্য করার সুযোগ দেওয়া যায় না।
এই মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রাজপাল যাদবকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা দেওয়া হয়েছিল। যদিও সে সময় তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের জুন মাসে দিল্লি হাইকোর্ট তার সাজা শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে স্থগিত করেন এবং বাদী ও বিবাদীপক্ষকে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজপাল যাদব একটি সিনেমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ ফেরত দিতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যা শেষ পর্যন্ত এই কারাবাসের রূপ নেয়।
রাজপাল যাদব ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘হাঙ্গামা’, ‘ধামাল’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ফির হেরা ফেরি’ ও ‘কাল হো না হো’-এর মতো বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। হাস্যরসাত্মক অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেতার বাস্তব জীবনের এমন ঘটনায় ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা—দুটোই তৈরি হয়েছে।
নিচে মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মামলার ধরন | চেক বাউন্স ও ঋণ পরিশোধ |
| ঋণের পরিমাণ | প্রায় ৫ কোটি রুপি |
| আদালতের আদেশ | অতিরিক্ত সময়ের আবেদন খারিজ |
| কারাগার | তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার |
| আত্মসমর্পণের তারিখ | ৫ ফেব্রুয়ারি |
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বলিউডের হাসির রাজা হিসেবে পরিচিত রাজপাল যাদবের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি কঠিন সময়, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।