খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শিশু হুজাইফা আফনান (১২) মারা গেছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
হুজাইফা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা শোকাহত। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আনোয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা আমির এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজা শেষে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় যেন আর কোনো নিরীহ প্রাণ ঝরে না পড়ে, এজন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”
হুজাইফা আহত হন গত ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের সময়। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হুজাইফা হাসপাতালে সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। মরদেহ শনিবার রাত ৩টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
নিচের টেবিলে আহত হওয়া থেকে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত হুজাইফার চিকিৎসা ও ঘটনাবলী সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা ও চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|
| ১১ জানুয়ারি, সকাল ১০টা | সীমান্তে গুলিতে গুরুতর আহত, স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি |
| ১১ জানুয়ারি, দুপুর | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয় |
| ১১ জানুয়ারি, বিকেল | ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে স্থানান্তর |
| ৭ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৯:৩০ | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
| ৭ ফেব্রুয়ারি, রাত ৩টা | মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় |
| ৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১টা | পারিবারিক কবরস্থানে দাফন |
হুজাইফার মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা তুলে ধরেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।