খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘট ও বন্দর কার্যক্রম স্থগিত থাকার কারণে সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি রাখার চেষ্টা করছে। এটা চলতে দেওয়া যাবে না। তাই সরকার সব পদক্ষেপে হার্ডলাইনে যাচ্ছে।”
উপদেষ্টা আরও জানান, শ্রমিকদের নতুন নতুন দাবি এবং বন্দর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা চলছেই। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মনিটরিং করি না। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রদানে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
রমজান মাসের শুরুয়াতেও বন্দর বন্ধ থাকার কারণে ১৮ কোটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বাধা পড়ছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এই পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে বলেন, “যেখানে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে, সেখানে আউটার জাহাজে পড়ে আছে ছোলা, ডাল, তেল। মানুষকে জিম্মি রাখা যায় না। আমাদের পোর্ট চালু রাখতে হবে।”
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর সংক্রান্ত চুক্তি বিষয়ে তিনি জানান, “আলোচনা এখনও চলমান। ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও সময় চাচ্ছে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন পরেও আলোচনা চলবে।” তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইতিমধ্যেই কয়েকজন দায়িত্বহীনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরকেও দমন করা হবে।
উপদেষ্টার বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ধর্মঘটের কারণ | শ্রমিকদের নতুন নতুন দাবি ও বন্দর কার্যক্রম জিম্মি করা |
| সরকারের অবস্থান | হার্ডলাইন, সকল দায়িত্বহীনকে আইনের আওতায় আনা |
| প্রভাবিত জনগণ | প্রায় ১৮ কোটি মানুষ |
| বন্দর কার্যক্রম | জরুরি পণ্য ও খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত |
| ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তি | আলোচনা চলমান, আরও সময় চাওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে নির্বাচন পরেও নেগোসিয়েশন চলবে |
উপদেষ্টা বলেন, “কতিপয় লোক সম্পূর্ণ বন্দর জিম্মি রাখার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে—অমুককে সরানো হবে, তমুককে আনা হবে, কমপেনসেশন দিতে হবে। এটা অত্যন্ত অযৌক্তিক। সরকার কঠোরভাবে এই বিষয়গুলি মোকাবিলা করবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এর স্থগিত থাকা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সরকার আশা করছে, কঠোর অবস্থান এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত বন্দর পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে, যাতে রমজান মাসে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়।