খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বরিশাল নগরীতে সরকারিভাবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা বিনামূল্যে বিতরণের বই কালোবাজারে বিক্রি করতে গিয়ে এক স্কুল শিক্ষক ও এক ভ্যানচালককে হাতে-নাতে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীর সদর রোডের একটি লাইব্রেরির সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানার পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সম্পদ চুরির ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার খোদ একজন শিক্ষককে এই অপকর্মে জড়িত থাকতে দেখে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণির সরকারি বই বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানে করে বরিশাল নগরীতে আনা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি চৌকস দল নগরীর অনামি লেন সংলগ্ন একটি লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে বইগুলো বিক্রির সময় অভিযুক্তদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন জানান, আটকরা হলেন—কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম এবং তার সহযোগী ভ্যানচালক রুবেল খান।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| সংশ্লিষ্ট বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আটককৃতদের পরিচয় | শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও ভ্যানচালক রুবেল খান |
| উদ্ধারকৃত বইয়ের সংখ্যা | ৩২৯টি (অষ্টম ও নবম শ্রেণির) |
| উৎস প্রতিষ্ঠান | কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
| অভিযান এলাকা | অনামি লেনের একটি লাইব্রেরির সামনে, সদর রোড |
| আইনি ব্যবস্থা | থানায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন |
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্কুলের স্টোর রুম থেকে এসব বই সুকৌশলে সরিয়ে নিয়ে লাইব্রেরিতে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত ৩২৯টি বই বর্তমানে কোতোয়ালি মডেল থানার হেফাজতে রয়েছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং কালোবাজারে বিক্রির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের মতে, যেখানে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এবং শিক্ষা প্রসারে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে তুলে দিচ্ছে, সেখানে একজন শিক্ষকের এমন কাজ জাতির জন্য লজ্জাজনক। কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের সাথে কোনো লাইব্রেরি মালিক বা অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এবং শিক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় পুলিশের এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।