খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার সন্ধ্যায় এই আসনের স্বতন্ত্র তথা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের গাড়ি বহরে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেট এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের ভাষ্যমতে, রোববার বিকেলে তিনি কাবিলপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার কাজ চালাচ্ছিলেন। মাগরিবের নামাজের পর দিলদার মার্কেট এলাকা থেকে গাড়িতে উঠে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মুহূর্তেই একদল সন্ত্রাসী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কেবল ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত কাজী মফিজুর রহমান কিংবা তাঁর সাথে থাকা কর্মীদের কেউ শারীরিক আঘাত পাননি।
তিনি এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি ধানের শীষের সমর্থকদের দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে প্রতিপক্ষ তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকও পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, সেনবাগ উপজেলা পরিষদ এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর গাড়িতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে মফিজুরের লোকজনই নিজেদের প্রার্থীর গাড়িতে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
ঘটনা সংক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আসন | নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | কাজী মো. মফিজুর রহমান (স্বতন্ত্র প্রার্থী) ও জয়নুল আবদিন ফারুক (বিএনপি প্রার্থী) |
| ঘটনার স্থান | দিলদার মার্কেট ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদ এলাকা |
| প্রতীক | কাপ পিরিচ (মফিজুর রহমান), ধানের শীষ (ফারুক) |
| আইনি অবস্থা | পুলিশি তদন্তাধীন, কাউকে আটক করা হয়নি |
| বর্তমান পরিস্থিতি | এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, থমথমে অবস্থা |
কাজী মো. মফিজুর রহমান বিএনপির একজন হেভিওয়েট নেতা ছিলেন। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় কমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে এই আসনে মূল লড়াই এখন ধানের শীষ বনাম কাপ পিরিচের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিকই, তবে গুলিবর্ষণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যালেস্টিক পরীক্ষা ও তদন্তের পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সেনবাগ বাজারের থানার মোড়ে কাপ পিরিচ প্রতীকের সমর্থকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। উত্তেজনা প্রশমনে পুরো নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।