খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীদের লাগাতার ধর্মঘট সাড়ে ১৬ ঘণ্টা পর স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংগঠনটির দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলো। তবে বন্দরের কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ধর্মঘট কর্মসূচি চালানো হবে।
এর আগে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত চার দফা দাবিতে কর্মচারীরা লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন। এই চার দফা দাবি ছিল:
| ধারা | দাবি |
|---|---|
| ১ | নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা প্রদান না করা |
| ২ | বন্দরের কর্মচারীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ |
| ৩ | সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার |
| ৪ | অন্য যেকোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ |
রোববার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ড-এর কাছে ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।” তবুও এই ঘোষণা আন্দোলনকারীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রভাব ফেলে নি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন রোববার রাত ৯টায় বন্দরের কিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রতিবাদে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আসে। তবে সংগ্রাম পরিষদ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মঘট স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “জনস্বার্থে এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মীমাংসার স্বার্থে কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।”
এই স্থগিত ঘোষণার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সীমিত হলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে কর্মচারীদের দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক অবস্থান পুনরায় কার্যকর হতে পারে।