খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-ওয়ানএস কোবরা অ্যাটাক হেলিকপ্টার দেশীয় প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় সকাল ১১ টার কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইঞ্জিন চালু রেখে জরুরি অবতরণের অনুশীলন করছিল। দুর্ঘটনার সঙ্গে প্রশিক্ষণের এই প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা তদন্তের পর জানা যাবে।
দুর্ঘটনার পর আহত দুই ক্রু সদস্যকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দেশটির সামরিক বাহিনী ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব এএইচ-ওয়ানএস হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত ঘটনা তদন্ত করছে।
সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার গভীর পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে। আমরা নিশ্চিত করব ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”
এএইচ-ওয়ানএস কোবরা হেলিকপ্টারগুলো মূলত আক্রমণ, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত নজরদারি কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। হেলিকপ্টারটি অত্যাধুনিক সেন্সর, চেইন গান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট দ্বারা সজ্জিত। এর বিশেষ একটি ক্ষমতা হলো জরুরি অবতরণ অনুশীলন সম্পাদন করা, যা প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব অভিযান উভয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নিম্নে এএইচ-ওয়ানএস কোবরা হেলিকপ্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| মডেল | AH-1S Cobra |
| ব্যবহার | আক্রমণ, প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ |
| ক্রু সংখ্যা | ২ (পাইলট ও কো-পাইলট/গাননার) |
| সর্বোচ্চ গতি | 293 কিমি/ঘণ্টা |
| অস্ত্র | চেইন গান, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট |
| বিশেষ ক্ষমতা | তাত্ক্ষণিক জরুরি অবতরণ অনুশীলন সক্ষম |
| নির্মাণকারক | বেল হেলিকপ্টার কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্র |
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা সেনাবাহিনীকে তাদের প্রশিক্ষণ এবং হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দিকে আরও নজর দিতে বাধ্য করছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোর করা, ক্রুদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা অপরিহার্য।
দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে, তদন্ত শেষে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ নীতি ও জরুরি কার্যক্রমের পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।