খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে মেক্সিকো। যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের আয়োজনে যুক্ত দেশটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে নামাচ্ছে চার পায়ে চলা রোবট কুকুর। সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, তল্লাশি অভিযান ও সম্ভাব্য সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় আগাম নজরদারিতে এই রোবটগুলো ব্যবহার করা হবে।
রোবট কুকুরগুলোর প্রধান সুবিধা হলো মানুষের জন্য বিপজ্জনক বা অনিরাপদ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে আগাম তথ্য দেওয়া। এগুলো সংকীর্ণ করিডর, পরিত্যক্ত ভবন, অন্ধকার গলি কিংবা ধসে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় ঢুকে লাইভ ভিডিও ও অডিও পাঠাতে সক্ষম। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ সদস্যরা দূর থেকেই কৌশল নির্ধারণ করতে পারবেন। ফলে হঠাৎ হামলা, বোমা বা সশস্ত্র প্রতিরোধের মতো ঝুঁকিতে কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রবেশের প্রয়োজন কমবে।
মন্তেরে শহরের আশপাশের গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫ লাখ পেসো ব্যয়ে এসব রোবট সংগ্রহ করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। গুয়াদালুপে এলাকায় বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু থাকায় এখানেই এই প্রযুক্তির প্রথম প্রয়োগ দেখা যাবে। স্থানীয় সরকারের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রোবট কুকুর পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে সিঁড়ি ভাঙা অবস্থায় ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে এবং সামনে এগিয়ে লাইভ ফুটেজ পাঠাচ্ছে। রোবটের পেছনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অগ্রসর হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এক পর্যায়ে রোবটটি একজন সশস্ত্র ব্যক্তির মুখোমুখি হলে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তাকে অস্ত্র নামাতে নির্দেশ দেয়—যা দূর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
গুয়াদালুপের মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বলেন, রোবট কুকুরের উদ্দেশ্য পুলিশের প্রাথমিক অভিযানে সহায়তা করা এবং কর্মকর্তাদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে বা সন্দেহভাজন এলাকায় প্রবেশের আগে এগুলো পাঠানো হবে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটগুলো দিয়ে নিয়মিত নজরদারি ছাড়াও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহভাজন বস্তু শনাক্ত এবং জরুরি অবস্থায় পরিস্থিতির লাইভ চিত্র সংগ্রহ করা যাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। মেক্সিকোর মন্তেরের বিবিভিএ স্টেডিয়ামে চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে; টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়ামটির নাম হবে এস্তাদিও মন্তেরে। আয়োজক দেশগুলো একযোগে উন্নত নজরদারি ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ড্রোন পর্যবেক্ষণের মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রোবট কুকুর নামানোকে নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মাঠের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।
রোবট কুকুরের সম্ভাব্য ব্যবহার ও সক্ষমতা (সংক্ষিপ্ত চিত্র):
| ব্যবহারক্ষেত্র | সক্ষমতা ও ভূমিকা |
|---|---|
| ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি | সংকীর্ণ ও অনিরাপদ স্থানে প্রবেশ করে লাইভ ভিডিও পাঠানো |
| পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ | অডিও–ভিডিওর মাধ্যমে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ |
| সশস্ত্র সন্দেহভাজন মোকাবিলা | লাউডস্পিকার দিয়ে নির্দেশনা দিয়ে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ |
| পুলিশ নিরাপত্তা বৃদ্ধি | সরাসরি প্রবেশের ঝুঁকি কমিয়ে কর্মকর্তাদের সুরক্ষা |
কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। সফল হলে ভবিষ্যতে বড় জনসমাগমপূর্ণ আয়োজনেও এই প্রযুক্তি নিয়মিত ব্যবহারের পথ খুলে যেতে পারে।