খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) পর্যন্ত সারা দেশে বেবিচকের অনুমতি ছাড়া সব ধরনের ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ।
তিনি জানান, এই সময়ে কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ড্রোনগুলি বিশেষ অনুমতির অধীনে উড়ানো যাবে। সাধারণ ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এ সময়ে ড্রোন পরিচালনা করতে পারবে না।
কাওছার মাহমুদ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সশরীরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি নির্বাচনের দিনগুলিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
নিচের টেবিলে ছয় দিনের ড্রোন নিষিদ্ধকালের সময়সূচি ও অনুমোদিত ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | দিন | অনুমোদিত ড্রোন ব্যবহারকারীরা | সাধারণ মানুষের জন্য অব্যবহৃত |
|---|---|---|---|
| ১০ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
বেবিচক জানায়, সাধারণ মানুষ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সময়ে ড্রোন উড়ালে তা সাইবার নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করার জন্য কঠোরভাবে নজরদারি চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী দিনগুলোতে ড্রোন ব্যবহার কেবল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি নয়, বরং জনসমাগমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই রকম ছয় দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেবিচক আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকে হয়তো ড্রোন-ভিত্তিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক বিলম্বের মুখোমুখি হবেন। তবে সুরক্ষা ও ভোটাধিকার রক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে।