খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের পর থেকেই কর্ণফুলী ব্রীজ ও এর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দেখা গেছে মানুষের জটলা। মোড়ে মোড়ে, স্টেশন ও চৌমুহনিতে ভোটাররা বাড়ি ফেরার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছেন। কোনো গাড়ি পেলে হুমড়ি খেয়ে উঠছেন, না পেলে ঝুলে বা হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা দিচ্ছেন।
মোইজ্জারটেক, চাতরী চৌমুহনী এবং কর্ণফুলী ব্রীজের উভয় প্রান্তে বিকেলের এই চিত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট উৎসবের উত্তেজনা ও ভোগান্তি দুইই প্রতিফলিত করছে। অনেকেই ব্যাগ হাতে বা কাঁধে ঝুলিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে গিয়ে ভাড়া কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। রেহেনা আক্তার নামের একজন যাত্রী জানান, “ব্রীজ থেকে বাঁশখালী গুনাগুরি পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সিএনজির ভাড়া ৮০–১০০ টাকা, কিন্তু আজকের মতো ভোটের দিনে ২০০–৩০০ টাকা দাবি করছেন চালকরা।”
চালকরা জানাচ্ছেন, যানবাহনের ঘাটতি ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপই মূল সমস্যা। তবে সবকিছু উপেক্ষা করেও ভোটাররা উৎসবমুখর মনে বাড়ি ফিরছেন।
রাফ্সান নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, “আমরা নতুন ভোটার। এবারের মতো ভোটের উত্তেজনা আগে কখনও দেখিনি। এবার তরুণ-যুবকদের ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
অন্যদিকে, আব্দুল কাদের নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, “নবম সংসদ নির্বাচনের পর এই নির্বাচনেই মানুষের মধ্যে সর্বাধিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তাই ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি।”
নিম্নের টেবিলটিতে দেখানো হলো কর্ণফুলী-বৃজ এলাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে সিএনজি ভাড়া এবং যাত্রীদের অভিযোগ:
| গন্তব্য | স্বাভাবিক ভাড়া (টাকা) | ভোটের দিনে দাবি করা ভাড়া (টাকা) | যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| বাঁশখালী গুনাগুরি | ৮০–১০০ | ২০০–৩০০ | অতিরিক্ত ভাড়া, ভোগান্তি |
| চাতরী চৌমুহনী | ৬০–৮০ | ১৫০–২০০ | যানবাহন কম, চাপ বেশি |
| মইজ্জারটেক | ৫০–৭০ | ১২০–১৫০ | দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে |
| কর্ণফুলী ব্রীজ | ৪০–৬০ | ১০০–১২০ | হেঁটেই পার হওয়া প্রাধান্য পেয়েছে |
এ পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, ভোটের দিন মানুষ নানাবিধ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, তবুও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ এবং দায়িত্ববোধ চোখে পড়ে। সাধারণ মানুষের এই দৃঢ় মনোভাব দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।