খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে চাঞ্চল্যকর সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত নিরাপত্তা ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, রাতের কোনো একসময় পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই চুরির ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি হতে পারে ভোটের দিন বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা সৃষ্টির পূর্বপরিকল্পিত অংশ। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অনুযায়ী, নির্বাচনের পূর্বে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরঞ্জামাদি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ভোটকেন্দ্রের নাম | স্থান | ঘটনা সময় | বর্তমান ব্যবস্থা | দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার |
|---|---|---|---|---|
| বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | আনোয়ারা উপজেলা | ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন | ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী |
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভোটের দিন কেন্দ্রে কোনও ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়। তারা চাইছেন, যারা এই সিসি ক্যামেরা চুরিতে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে এমন ধরনের ঘটনা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা কমাতে পারে। তাই প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় কমিটি যৌথভাবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।