খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান যদি তাঁর শর্ত মেনে না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর পদক্ষেপ” নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা না হলে আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা অবলম্বন করা হতে পারে।
এই হুমকির সময় ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি ও ওমানের সুলতান হাইতাম বিন তারিক আল সাইদ গত সপ্তাহে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার ফলাফল নিয়ে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের কাছাকাছি জরসীমায় বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী জাহাজও অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা ভাবছেন।
সাম্প্রতিক নির্দেশনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে দূরে থাকুক। এই পদক্ষেপই ইঙ্গিত দেয় যে ইরানকে চাপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে মূল তথ্য নিম্নলিখিত টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ | তারিখ/সময় |
|---|---|---|
| প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি | ইরান না মানলে কঠোর পদক্ষেপ | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বৈঠক | আলী লারিজানি ও সুলতান হাইতাম | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| নৌবহর | ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও অন্যান্য | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশনা | ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকা | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি | মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেনা | চলমান ২০২৬ |
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং সামরিক প্রস্তুতি ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এখন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর সংকেত হতে পারে।