খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে দাপুটে শুরু করেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারল না চেলসি। ম্যাচে প্রথমে দুই গোলের লিড নেওয়ার পর আত্মতুষ্টি ও রক্ষণভাগের ধারাবাহিক ভুলে শেষ পর্যন্ত ২–২ গোলে ড্র করতে হলো লন্ডনের ক্লাবটিকে। এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে সেরা চারে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে চেলসির। অন্যদিকে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াল লিডস ইউনাইটেড।
ম্যাচের প্রথমার্ধে চেলসি ছিল তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক। মাঝমাঠে দখল রেখে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে জোয়াও পেদ্রোর নিখুঁত ফিনিশে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। গোলের পর গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও লিডসও কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। বিরতির পর চেলসি আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নেয়। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে কোল পালমারের গোলে ব্যবধান বাড়ায় তারা। ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল ম্যাচ প্রায় নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে পচেত্তিনোর দল।
কিন্তু ফুটবল যে ভুলের খেলা, সেটিই আবার প্রমাণ হলো। মাঝমাঠে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে মোইসেস কাইসেদো বক্সের ভেতরে জেডেন বোগলেকে ফাউল করেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট-কিক থেকে লুকাস নেমেচা শান্ত মাথায় গোল করে ব্যবধান কমান। এই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। গোল খাওয়ার পর চেলসির রক্ষণভাগে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, আর লিডস আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।
সমতায় ফেরার গোলটি আসে আরও বড় ভুল থেকে। জশ আচেমপং, মালো গুস্তো ও গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ—তিনজনেরই সমন্বয়হীনতায় বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় চেলসি। সুযোগ বুঝে নোয়া ওকাফর সামনে থেকে সহজ টোকায় জালে বল জড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নেমে আসে হতাশার নীরবতা। শেষ দিকে চেলসি কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল আর আসেনি।
নতুন কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের অধীনে প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচ জয়ের ধারায় ছিল চেলসি। এই ড্রয়ের ফলে তাদের সেই জয়ের ধারায় ছেদ পড়ল। একই সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ড্র করায় সেরা চারে ওঠার সুযোগ ছিল চেলসির সামনে; কিন্তু পয়েন্ট হারিয়ে তারা আপাতত পঞ্চম স্থানেই রয়ে গেল। অপরদিকে এই ড্রয়ের সুবাদে লিডস ইউনাইটেড টটেনহামকে পেছনে ফেলে লিগ টেবিলের ১৫তম স্থানে উঠে এসেছে, যা রেলিগেশন জোন থেকে দূরে থাকার লড়াইয়ে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
| বিষয় | চেলসি | লিডস ইউনাইটেড |
|---|---|---|
| গোল | ২ | ২ |
| শট অন টার্গেট | ৬ | ৪ |
| বল দখল (প্রায়) | ৫৮% | ৪২% |
| কর্নার | ৭ | ৩ |
| ফাউল | ১২ | ১৪ |
| পেনাল্টি | ০ | ১ |
এই ম্যাচ চেলসির জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে রইল—ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ ও রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে লিডস ইউনাইটেড প্রমাণ করল, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে বড় দলের বিপক্ষেও পয়েন্ট আদায় করা সম্ভব।