খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জোটবদ্ধ রাজনীতির ভেতরে ও বাইরে কৌশলী অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নির্বাচনী কারচুপি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেন যে, ভোটের আগের রাতেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ১২৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাঁদের দপ্তরে জমা পড়েছে।
নজরুল ইসলাম খান অত্যন্ত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যে আদর্শ ও নীতির কথা জামায়াত বলে থাকে, মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র দখল এবং অবৈধ অর্থের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষভাবে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের এক নেতার কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনাটিকে তিনি বড় ধরনের নির্বাচনী প্রকৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট পরিবার এটিকে ব্যবসায়িক অর্থ দাবি করেছে, কিন্তু নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন তোলেন যে, ৩ হাজার টাকা আয়কর দেওয়া একজন কর্মজীবী মানুষের কাছে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোত্থেকে এল।
| স্থানের নাম | ঘটনার বিবরণ | গৃহীত ব্যবস্থা |
| সৈয়দপুর বিমানবন্দর | জামায়াত নেতার কাছে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার | তদন্তাধীন ও জব্দ |
| শরীয়তপুর | সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক | ২ বছরের কারাদণ্ড |
| রাজধানী (সূত্রাপুর) | ভোট কেনার সময় জামায়াত নেতা আটক | ২ দিনের কারাদণ্ড |
| নারায়ণগঞ্জ | জাল ভোট দেওয়ার সময় জামায়াত নেতা আটক | প্রিসাইডিং অফিসারসহ আটক |
| ফেনী (ছাগলনাইয়া) | ভোটকেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা | ১৩ জনকে অর্থদণ্ড |
| কুমিল্লা-৪ | এনসিপি নেতার মাধ্যমে টাকা বিতরণের চেষ্টা | গণপ্রতিরোধ ও প্রতিহত |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, প্রথমে শোনা গিয়েছিল ইসি সচিব বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অন্যায় নয়’ বলে অভিহিত করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদিও পরবর্তীতে সচিব দাবি করেছেন যে তাঁকে ‘মিসকোট’ করা হয়েছে, তবুও নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বা সংবাদমাধ্যমের বিভ্রান্তি জনমনে সংশয় তৈরি করে।
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির গাড়িতে বিপুল অর্থ পাওয়ার খবরটিকে তিনি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি বড় আসনে শত শত বুথে পোলিং এজেন্টদের আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য কিছু অর্থ রাখা একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বিশেষ কিছু পক্ষ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা সেই ১৫ লাখ টাকাকে ৮০ লাখ বা ২ কোটি টাকা হিসেবে প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, অনেক জায়গায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদের গোপন যোগসাজশ রয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দেশের সচেতন নাগরিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা চাই জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। কোনো অপশক্তি যেন জালিয়াতি বা পেশীশক্তির মাধ্যমে মানুষের রায় ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” বিএনপি আশা প্রকাশ করে যে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।