খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিল হওয়ার ঘটনা বিরল হলেও সম্পূর্ণ অচল নয়। সহিংসতা, কারচুপি, ভয়ভীতি অথবা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ক্ষমতা আইনত সুস্পষ্টভাবে সংরক্ষিত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট বন্ধ বা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৯১(ক) ধারায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম আরপিও প্রণয়ন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধারার পরিধি পরিবর্তিত হয়েছে।
২০২৩ সালের সংশোধনী: কোনো কেন্দ্রে বড় ধরনের অনিয়ম বা ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা থাকলে ইসি সেই কেন্দ্রের ভোট বা ফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দিতে পারত। তবে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা সীমিত ছিল।
২০২৫ সালের সংশোধনী: কমিশনের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত, এমনকি ভোটের দিনও ইসি প্রয়োজনে ভোট স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
এ সংশোধনীর পটভূমিতে রয়েছে ২০২২ সালের গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগে পুরো উপনির্বাচন বাতিল হয়েছিল।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে মূলত পাঁচটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়।
| পরিস্থিতি | বিস্তারিত | সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা |
|---|---|---|
| কেন্দ্রভিত্তিক অনিয়ম | ব্যালট পেপারে জাল সিল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, মারাত্মক সহিংসতা | প্রিজাইডিং অফিসার তৎক্ষণাৎ ভোট স্থগিত করতে পারেন |
| কমিশনের হস্তক্ষেপ | প্রিজাইডিং অফিসার ব্যবস্থা না নিলে | কমিশন রিটার্নিং অফিসারকে কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে |
| পুরো আসনের অনিয়ম | সিসিটিভি ফুটেজ, প্রশাসনিক রিপোর্ট বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণ | তদন্ত সাপেক্ষে আসনের ভোট বাতিল করা যেতে পারে |
| আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া | ভোটার কেন্দ্রে যেতে না পারা, সহিংসতা, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হারানো | ইসি ভোট বন্ধ বা স্থগিত করতে পারে |
| প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব | রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ | কমিশন কর্মকর্তাকে সরিয়ে ভোট প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাস করতে পারে |
ভোট স্থগিত: সাময়িক বিশৃঙ্খলা যেমন ককটেল বিস্ফোরণ বা হাতাহাতি হলেও ব্যালট অক্ষত থাকলে ভোট সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোট পুনরায় শুরু হয়।
ভোট বাতিল: গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে কেন্দ্র বা আসনের ভোট পুরোপুরি বাতিল করা হয় এবং পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসির হাতে ভোট স্থগিত বা বাতিল করার সুস্পষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।