খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম নয় দিনে প্রবাসীরা মোট ১১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হয়েছে, তা চলতি মাসেও অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের একই সময়ে—ফেব্রুয়ারির প্রথম নয় দিনে—দেশে এসেছিল ৮ কোটি ৬৬ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ের রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বাড়ে। তবে এবার ঈদের মৌসুম ছাড়াও নির্বাচনকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারের খরচ, নির্বাচনী সময়ের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। তার আগের পাঁচ মাসে গড়ে মাসিক প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল, অর্থাৎ সাম্প্রতিক দুই মাসে প্রবৃদ্ধির ধারা তুলনামূলকভাবে জোরালো হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক বেশি আসছে। অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমে আসায় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫ সালে সারা বছর মিলিয়ে দেশে মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা সে সময়কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় সমপরিমাণ ছিল। ওই বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক ভালো থাকায় ডলারের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা যায়নি। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বছরজুড়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে রিজার্ভ শক্তিশালী করেছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক দেনা পরিশোধে দেশের সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে।
| সময়কাল | প্রবাসী আয় (মিলিয়ন ডলার) | আগের বছরের তুলনায় পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ফেব্রুয়ারির প্রথম ৯ দিন (চলতি বছর) | ১১৩.৫ | +৩২.৩% |
| ফেব্রুয়ারির প্রথম ৯ দিন (গত বছর) | ৮৬.৬ | — |
| জানুয়ারি (চলতি বছর) | ৩,১৭০ | প্রবৃদ্ধি |
| ডিসেম্বর (পূর্ববর্তী মাস) | ৩,২২০ | সামান্য হ্রাস |
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে টানা কয়েক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক প্রবাসী আয় সুবিধাভোগী শাখা থেকে নগদ অর্থ তুলতে পারছেন না। যাঁদের এটিএম কার্ড রয়েছে, তাঁরা বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছেন; ব্যাংকভেদে এক দিনে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এক ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবাও সীমিত থাকায় বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি রেমিট্যান্স উত্তোলন আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। এসব সাময়িক বিধিনিষেধের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।