খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা গোপন প্রস্তুতির তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস। সামরিক সূত্রের মতে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে জটিল ও বিপজ্জনক সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী, কয়েক হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করছে। এই সামরিক প্রস্তুতি আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা উভয়ের জন্যই সমানভাবে কার্যকর হতে পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে ইরান নীতি নিয়ে সব বিকল্প খোলা রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের পরিকল্পনা পূর্ববর্তী অভিযানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছিল, যা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক। কিন্তু বর্তমান পরিকল্পনায় ইরানের রাষ্ট্রীয়, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এই অভিযানের ঝুঁকি অনেক বেড়ে দিচ্ছে।
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যদি ইরান আক্রমণের শিকার হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো—যেমন জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও তুরস্ক—লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
নিচের টেবিলে সামরিক মোতায়েন ও সম্ভাব্য ঝুঁকির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নতুন রণতরী | একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন |
| সেনা মোতায়েন | কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, মিসাইল ডেস্ট্রয়ার |
| লক্ষ্যবস্তু | রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামো, পূর্ববর্তী অভিযান তুলনায় বিস্তৃত |
| ঝুঁকি | ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে উচ্চ ঝুঁকি |
| ইরানের হুঁশিয়ারি | মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা |
| ট্রাম্পের মন্তব্য | চুক্তি কঠিন, ক্ষেত্রবিশেষে ‘ভয়’ দেখানো প্রয়োজন |
উত্তেজনার আরও মাত্রা যোগ করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তর ক্যারোলাইনায় দেওয়া ভাষণ, যেখানে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কখনও কখনও ‘ভয় প্রদর্শন’ জরুরি।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখন এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামরিক সংঘাত এলে তা কেবল অঞ্চলগত নয়, বৈশ্বিক প্রভাবও ফেলতে পারে।