খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জিয়া সৈনিক দলের থানা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী এই ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই দলের একটি অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে মূল দলের নেতার এমন হস্তক্ষেপে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী নেতাদের দাবি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মনির হোসেন তাঁর কার্যালয়ে সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন-উত্তর এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছিলেন। সভা চলাকালীন হঠাৎ গাজী মনির হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সেখানে চড়াও হন। তারা জিয়া সৈনিক দলের সভাপতিকে কক্ষ থেকে একপ্রকার ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন এবং দোকানের শাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী জিয়া সৈনিক দলের নেতা মনির হোসেন জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ গাজী মনির এসে আমাকে বের করে দেন এবং বলেন যে, এখানে রাজনীতি করতে হলে মূল দলের নেতাদের অনুমতি ও পরামর্শ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আমি বিষয়টি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গাজী মনির হোসেন এই ঘটনার দায় স্বীকার করলেও এর পেছনে রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানের যুক্তি দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি, যারা বর্তমানে জিয়া সৈনিক দলের নামে অফিস পরিচালনা করছেন, তারা মূলত বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত বলে জানিয়েছেন।
ঘটনা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| পক্ষ/ব্যক্তি | পদবি | বর্তমান অবস্থান ও মন্তব্য |
| মনির হোসেন | সভাপতি, জিয়া সৈনিক দল, সিদ্ধিরগঞ্জ | কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ। |
| গাজী মনির হোসেন | সাবেক সভাপতি, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি | আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তালা ঝোলানোর দাবি। |
| অধ্যাপক মামুন মাহমুদ | আহ্বায়ক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি | ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। |
| আব্দুল বারিক | ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা | একে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। |
ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এটি মূলত দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা থানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার এবং বিগত সময়ের রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে বিতর্কের জের ধরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মূল দলের নেতার অনুসারীদের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক সংহতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন না করা হলেও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে এবং কর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।