খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ধানমণ্ডি ৩২-এ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন ঢাকায় আসেন। তবে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার সময় হঠাৎ হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় কুমিল্লা থেকে আগত আরও এক নারীও ধানমণ্ডি থানা পুলিশের হাতে আটক হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্ট থেকে। তিনি লিখেন, “এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি। সময়: আজ বিকেল ৪টা।”
পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমবেত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিকেল ৪টার পর অধ্যাপক জামাল উদ্দীন সেখানে উপস্থিত হন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর উপস্থিতিতে কিছু সময়ের মধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেন এবং অধ্যাপকসহ এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
| নাম | পদবী / পরিচয় | আগমনের স্থান | আটককালের সময় |
|---|---|---|---|
| আ ক ম জামাল উদ্দীন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ অধ্যাপক | ঢাবি | ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৫টা |
| অজ্ঞাত নারী | কুমিল্লা থেকে আগত | কুমিল্লা | ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৫টা |
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের ধানমণ্ডি থানা তল্লাশি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে থানায় রাখা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অশান্তি শুরু হওয়ার পর পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল এবং কিছু ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে তর্ক-বিতর্ক করছিলেন।
এ ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে যথেষ্ট আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং নাগরিকদের ধানমণ্ডি ৩২-এ আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তুলেছে যে, ভবিষ্যতে কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা ও স্মরণ আয়োজন করা সম্ভব।
স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশ এবং প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি চিহ্নিত করবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ প্রতিরোধ করবে।