খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চীনের রাজধানী বেইজিং মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরা এখন থেকে ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর কার্যকর হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি চীনের বেইজিং সফর করেন। সফরকালে তারা চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
সফরের সময় উভয় নেতা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই পক্ষই আলোচনা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি তাদের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ৩০ দিনের বেশি সময়ের জন্য চীনে ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা, বিনিময় এবং ট্রানজিটের জন্য প্রবেশ করতে পারবেন। এই নীতি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভিসা-স্বাধীন প্রবেশাধিকার সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক বিনিময়কে আরও সহজ করবে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরা চীনে সহজেই ভ্রমণ করতে পারলে পর্যটন শিল্প, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বিস্তৃত হবে।
নিম্নে চীনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রধান শর্তাবলী একটি টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| দেশের নাম | প্রবেশাধিকার সময়সীমা | ভিসা ধরন | অনুমোদিত কার্যক্রম |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাজ্য | ৩০ দিন | ভিসা-মুক্ত | পর্যটন, ব্যবসা, আত্মীয়-স্বজন সাক্ষাৎ, ট্রানজিট |
| কানাডা | ৩০ দিন | ভিসা-মুক্ত | পর্যটন, ব্যবসা, আত্মীয়-স্বজন সাক্ষাৎ, ট্রানজিট |
এই উদ্যোগ কেবল দুই দেশের পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা নয়, বরং চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক চাপে থাকা অবস্থায় চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্য লাভজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ভিসা-ছাড় নীতি কার্যকর হওয়ার পর, পর্যটকরা চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থান ও আধুনিক নগর জীবন সহজে অন্বেষণ করতে পারবেন। এছাড়া, ব্যবসায়িক ও শিক্ষাগত বিনিময়ও গতিশীল হবে, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।