খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নামিবিয়াকে ৩১ রানে পরাজিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চেন্নাইয়ের এম. এ. চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়লাভের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্বে ওঠার সমীকরণ জিইয়ে রাখল। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ হেরে আফ্রিকার প্রতিনিধি নামিবিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা এবারের মতো এখানেই সমাপ্ত হলো। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া লড়াই করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ রক্ষা হয়নি।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস। শুরু থেকেই মার্কিন ব্যাটাররা চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন। উদ্বোধনী জুটিতে মোনাঙ্ক প্যাটেল ও জাহাঙ্গীরের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দেয়। অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল খেলেন ৫২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। তবে ইনিংসের আসল চমক ছিলেন সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি। মাত্র ৩৩ বলে ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলের স্কোরকে ১৯৯-এ নিয়ে যান। তার ইনিংসে ছিল দর্শনীয় সব বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির মেলা।
২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ১০ ওভারে তারা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান তুলে ফেলেছিল, যা তাদের জয়ের পথেই রেখেছিল। ওপেনার স্টিনক্যাম্প ৫৮ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে হঠাৎ করেই পথ হারায় নামিবিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টানা ৩০ বল কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি তারা। মূলত এই ডট বলের চাপেই তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
নিচে দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান প্রদান করা হলো:
টেবিল: ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
| দলের নাম | রান/উইকেট | ওভার | সেরা পারফর্মার (ব্যাটিং) | সেরা পারফর্মার (বোলিং) |
| যুক্তরাষ্ট্র | ১৯৯/৪ | ২০.০ | সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৬৮*), মোনাঙ্ক (৫২) | শালকভিক (২/৩০) |
| নামিবিয়া | ১৬৮/৬ | ২০.০ | স্টিনক্যাম্প (৫৮), স্মিট (৩১) | মাইবার্গ (২/২২), এরাসমাস (২/২৭) |
ম্যাচের ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্র ৩১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (যুক্তরাষ্ট্র)।
নামিবিয়ার পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল ইনিংসের ১১ থেকে ১৫তম ওভার পর্যন্ত বাউন্ডারি মারতে না পারা। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পিনাররা এবং সৌরভ নেত্রবলকারের মতো অভিজ্ঞ পেসাররা রানের গতি একদম আটকে দেন। শেষ দিকে স্মিট ৩১ রান করে চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই জয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গ্রুপ ‘এ’-তে এই জয়ের ফলে তারা পয়েন্ট টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাল। সুপার এইটে যাওয়ার লড়াইয়ে এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। অন্যদিকে, নামিবিয়ার মতো লড়াকু দলের এভাবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ভক্তদের জন্য হতাশাজনক হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ক্রিকেটিং মনোভাব প্রশংসার দাবিদার।
চেন্নাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেটে যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের শৃঙ্খলা এবং সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির বিধ্বংসী ব্যাটিং—এই দুয়ের সংমিশ্রণেই মূলত ধরা দিয়েছে এই জয়। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কোনো ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে নয়, বরং মূল ধারার ক্রিকেটে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।