খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) প্রধান কমিশনার আজম বাকির পদত্যাগের দাবিতে। শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত গুরুতর কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আজম বাকির অপসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে শত শত বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রস্থলে সমবেত হন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির প্রভাবশালী সংস্কারপন্থী সংগঠন ‘বারসিহ’। কালো পোশাক পরিহিত বিক্ষোভকারীরা সরকারের ধীরগতির তদন্ত এবং আজম বাকির পদে বহাল থাকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আজম বাকির বিরুদ্ধে জনরোষের মূল কারণ হলো তাঁর অস্বাভাবিক শেয়ার সম্পদ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ২০২৫ সালে আজম বাকি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণ করেছেন। মালয়েশীয় আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি শেয়ার মালিকানা রাখতে পারেন না। আজম বাকির বিরুদ্ধে এই আইনি সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়।
টেবিল: মালয়েশীয় সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত আইনি সীমা
| মাপকাঠি | আইনি বিধিনিষেধ (নিয়মাবলী) | আজম বাকির বিরুদ্ধে অভিযোগ |
| সর্বোচ্চ আর্থিক মূল্য | ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) রিঙ্গিত | নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণ। |
| মূলধন অংশীদারিত্ব | পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৫% | বিপুল পরিমাণ শেয়ার যা ৫% সীমাকে স্পর্শ করে। |
| বর্তমান অবস্থা | আইন ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | তদন্তাধীন থাকলেও পদে বহাল এবং ছুটিতে যেতে অস্বীকৃতি। |
এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী রাফিজি রামলী। তিনি ক্ষমতাসীন জোট সরকারকে উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রাফিজি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ওপর ভর করেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ক্ষমতায় এসেছেন। অথচ আজম বাকির মতো বিতর্কিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।
সমাবেশে উপস্থিত সেতিয়াওয়াংসা আসনের সংসদ সদস্য নাইক নাজমি নাইক আহমেদ মনে করিয়ে দেন যে, ২০২২ সালেও একই দাবিতে হওয়া মিছিলে আনোয়ার ইব্রাহিম নিজে অংশ নিয়েছিলেন। তখন আজকের প্রধানমন্ত্রীই আজম বাকির সম্পদের হিসাব দাবি করেছিলেন। এখন তিনি ক্ষমতায় থাকার পরও আজম বাকি কেন স্বপদে বহাল আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ বিক্ষোভকারীরা।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে আজম বাকি দাবি করেছেন যে তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। উল্টো তিনি ব্লুমবার্গের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। যদিও এই ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, তবুও আজম বাকি তদন্তকালীন সময়ে ছুটিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, তদন্তাধীন অবস্থায় এমএসিসি প্রধানের পদে থাকা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে বড় বাধা।
কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন মালয়েশিয়ার রাজপথে একটি প্রতীকী অর্থ বহন করে। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, এই কালো পোশাক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার ‘পচন’ এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের ভাবমূর্তির ওপর বড় এক হুমকির প্রতীক। দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধানই যদি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে দেশের সাধারণ নাগরিকরা কার কাছে বিচার চাইবেন—সেই প্রশ্নই এখন মালয়েশিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রে।