খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার সঙ্গে দেশি অর্থনীতির বিভিন্ন দুর্বলতা মিলিত হয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নিম্নমানের কর আদায়, খেলাপি ঋণ, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা এই সংকটের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমছে, বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার ঋণের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে, এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বোঝা সৃষ্টি করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তার উত্তরাধিকার নোটে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য ঋণ ও রাজস্ব ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে আস্থা পুনঃস্থাপনের ওপর অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন।
উত্তরাধিকার নোটে উল্লেখিত প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি | উপদেষ্টার পরামর্শ |
|---|---|---|
| মূল্যস্ফীতি | ঊর্ধ্বমুখী, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ৯% | মুদ্রানীতি ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা |
| কর আদায় | নিম্নমানের, এনবিআরের সংস্কার প্রক্রিয়াধীন | কর সংগ্রহ বাড়াতে ডিজিটালাইজেশন ও কাস্টমস আধুনিকায়ন |
| ব্যাংক খাত | খেলাপি ঋণ ৩৬%, পুঁজির ঘাটতি | ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক পুনর্গঠন ও ব্যাংক রিসলিউশন ইউনিট কার্যকর |
| ঋণ ও সুদ | ঋণের সুদহার বাড়ছে, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি | বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন ঋণ ব্যবস্থাপনা |
| বৈদেশিক খাত | আমদানি বৃদ্ধি, রপ্তানি কম | রপ্তানির উন্নয়ন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি |
অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যেমন ব্যাংক কোম্পানি আইন (সংশোধন), ফিন্যান্স কোম্পানি আইন, সিকিউরড ট্রানজেকশন আইন, অর্থ ঋণ আদালত আইন, আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের জন্য ব্যাংক রিসলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ কার্যকর হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এগুলো পূর্ণ ক্ষমতাসহ বাস্তবায়ন করছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক রিসলিউশনের জন্য সরকারের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাপ হিসেবে রয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা
বাজার পর্যবেক্ষণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
ভ্যাট অটোমেশন ও ই-ইনভয়েস কার্যক্রম চালু করে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো
অর্থ উপদেষ্টা আশা করছেন, সরকারি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ সাধনের কারণে আগামী জুনে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসবে। তবে বৈদেশিক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্য চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
নতুন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব হবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শক্তিশালী আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অনিয়ম ঘটতে না পারে।