খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে কখনও কখনও নিয়তি এমন নাটক রচনা করে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। সদ্য সমাপ্ত লিগ পর্বের উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই আবার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং পর্তুগালের গর্ব বেনফিকা। এবার লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ–এর শেষ ষোলোর প্লে–অফে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলবিশ্বে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ দিবসে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল লিসবনের ঐতিহাসিক এস্তাদিও দা লুজ–এ। সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠা নাকি প্লে–অফ—এই সমীকরণ নির্ধারণ করছিল ম্যাচটির ফল। ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। তবে ছয় মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে বেনফিকা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, ৫৪ মিনিটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩–১।
৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। তখনও আশা জিইয়ে ছিল রিয়ালের—৩–২ স্কোরলাইন থাকলে তারাই সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠত। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে নাটকীয় মোড়। ফ্রি–কিক থেকে বক্সে উঠে আসেন গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন এবং দুর্দান্ত হেডে গোল করে বেনফিকাকে ৪–২ ব্যবধানে জয় এনে দেন। সেই এক গোলের ব্যবধানেই সরাসরি অগ্রযাত্রা হাতছাড়া হয় রিয়ালের।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, এই দ্বৈরথে এগিয়ে বেনফিকাই।
| মৌসুম/বছর | প্রতিযোগিতা | ফলাফল | ভেন্যু |
|---|---|---|---|
| ১৯৬২ | ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল | বেনফিকা ৫–৩ রিয়াল | আমস্টারডাম |
| ১৯৬৪–৬৫ | কোয়ার্টার ফাইনাল (প্রথম লেগ) | বেনফিকা ৫–১ রিয়াল | লিসবন |
| ১৯৬৪–৬৫ | কোয়ার্টার ফাইনাল (দ্বিতীয় লেগ) | রিয়াল ২–১ বেনফিকা | মাদ্রিদ |
| ২০২৬ | লিগ পর্ব | বেনফিকা ৪–২ রিয়াল | লিসবন |
চার দেখায় তিন জয় বেনফিকার, একটি রিয়ালের। তবু পরিসংখ্যানই সব নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে রিয়াল সর্বাধিক শিরোপাধারী ক্লাব—১৪ বারের ইউরোপ সেরা। নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ।
বেনফিকা কোচের ভাষায়, “আহত রাজা সব সময় বিপজ্জনক।” বাস্তবতা হলো, রিয়াল এবার প্রতিশোধের মঞ্চে নামছে। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসী বেনফিকা জানে—সাহসী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারলে তারা আবারও চমক দেখাতে পারে।
একই রাতে আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াইয়ে প্রথমবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই = এএস মোনাকো। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ৫০ দেখায় পিএসজির ২৩ জয়, মোনাকোর ১৩, ড্র ১৪টি। শক্তির বিচারে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও ডার্বি ম্যাচে পরিসংখ্যান অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে আজকের রাত ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাস, প্রতিশোধ ও নতুন গল্প—সব মিলিয়ে চোখ থাকবে দুই স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে।