খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা থাকলেও কিছু পরিসংখ্যান রয়েছে, যা ভাঙা বর্তমান সময়ের ফুটবলের বড় তারকাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম হল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখা আছে ম্যারাডোনার। ১৯৭০ সাল থেকে এই ধরনের পরিসংখ্যান রাখা শুরু হলেও, চারটি বিশ্বকাপে (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪) খেলতে গিয়ে তিনি মোট ১৫২টি ফাউলের শিকার হয়েছেন। মাত্র ২১ ম্যাচে তার গড় ছিল প্রতি ম্যাচে ৭.২৩টি ফাউল। এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফাউল শুধুমাত্র ১৯৮৬ মেক্সিকো এবং ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে হয়েছিল।
বর্তমান সময়ের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি দ্বিতীয় স্থানে। পাঁচটি বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে তিনি ৭৫টি ফাউলের শিকার হয়েছেন, যা প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৮৮।
ব্রাজিলের দুই তারকা জায়ারজিনহো ও নেইমার যথাক্রমে ৬৪ ও ৬০টি ফাউলের শিকার হয়েছেন। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পঞ্চম স্থানে আছেন ৫৮টি ফাউল নিয়ে। নেইমারের গড় প্রতি ম্যাচে চারটি, আর ২২ ম্যাচে রোনালদোর গড় ২.৬৩।
নিচের টেবিলে শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড়ের ফাউল পরিসংখ্যান সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| খেলোয়াড় | দেশ | বিশ্বকাপ ম্যাচ | মোট ফাউল | প্রতি ম্যাচ ফাউল গড় | বিশ্বকাপ সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| দিয়েগো ম্যারাডোনা | আর্জেন্টিনা | 21 | 152 | 7.23 | 4 |
| লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | 26 | 75 | 2.88 | 5 |
| জায়ারজিনহো | ব্রাজিল | 22 | 64 | 2.91 | 4 |
| নেইমার | ব্রাজিল | 15 | 60 | 4.00 | 3 |
| ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | 22 | 58 | 2.63 | 3 |
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যারাডোনার সময়ের ফুটবল ছিল অনেক বেশি শারীরিক ও সংঘর্ষপূর্ণ। বর্তমানে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা, কঠোর নিয়ম এবং VAR প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এত বেশি ফাউলের শিকার হওয়া কমে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ জে-তে খেলবে, যেখানে প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। তাদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে। পর্তুগাল গ্রুপ কে-তে খেলবে, প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ বিজয়ী দল। ব্রাজিল গ্রুপ সি-তে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে।
যদিও মেসি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেননি, এবং নেইমার ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হলে খেলতে পারবেন। অন্যদিকে রোনালদো ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
ফলে, বর্তমান সময়ের মেসি, নেইমার বা রোনালদোরা ম্যারাডোনার এই বিরল রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সমালোচকরা সন্দিহান। খেলোয়াড়দের শারীরিক লিমিট, কঠোর নিয়ম এবং আধুনিক ফুটবল কৌশল মিলিয়ে, এটি এখনও এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড।