খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি তৎপরতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আফগান সীমান্ত সংলগ্ন বাজাউর জেলায় এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১১ জন সদস্য এবং এক নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়েছে। সোমবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলাটি ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে এটি অন্যতম বড় একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর তথ্যমতে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, চেকপোস্টের মূল অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং আশেপাশের আবাসিক ভবনগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য শাহাদাত বরণ করেন। দুর্ভাগ্যবশত, বিস্ফোরণের কবলে পড়ে এক শিশুও প্রাণ হারায়। এছাড়াও নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত সাতজন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিচে বাজাউর হামলায় ক্ষয়ক্ষতি এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার তুলনামূলক চিত্র একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ/পরিসংখ্যান |
| হামলার ধরণ | বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা |
| নিহত (নিরাপত্তা বাহিনী) | ১১ জন |
| নিহত (বেসামরিক) | ০১ জন (শিশু) |
| আহত | ০৭ জন (নারী ও শিশুসহ) |
| নিহত জঙ্গি (সেনাবাহিনীর দাবি) | ১২ জন |
| ২০২৪ সালে হামলার সংখ্যা | ১,৬২০ টি |
| ২০২৫ সালে হামলার সংখ্যা | ২,৩৩১ টি |
হামলার পরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই এলাকায় ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। আইএসপিআর দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধে অন্তত ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। বর্তমানে পুরো বাজাউর জেলা ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো জঙ্গি পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য আফগান সীমান্তে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হামলার সংখ্যা ছিল ১,৬২০টি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৩৩১টিতে। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ওই অঞ্চলে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগান সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গিদের মদত পাওয়া এবং আধুনিক মারণাস্ত্রের সহজলভ্যতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তার করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সরকার ও সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সামনের দিনগুলোতে সহিংসতার মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।