খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বল্পমাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ভূকম্পনের সময়কাল ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.১ রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাধারণত ক্ষুদ্র ও হালকা ধরনের ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর প্রথম আলোকে বলেন, “কলারোয়া এলাকা কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এখানে ভূমিকম্পের তীব্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় হালকা। পূর্বেও এ অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটেছে। এই ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
ভূমিকম্পের বিশদ তথ্য নিম্নরূপ টেবিলে দেখানো হলো:
| তথ্যশ্রেণি | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ ও সময় | ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ৩, ভোর ৪:৩৬:৪৬ |
| উৎপত্তিস্থল | সাতক্ষীরা জেলা, কলারোয়া উপজেলা |
| দূরত্ব (ঢাকা থেকে) | প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম |
| ভূমিকম্পের মাত্রা | ৪.১ রিখটার স্কেল |
| ঝুঁকির মাত্রা | কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা |
| ক্ষয়ক্ষতি | জানা যায়নি |
| পূর্ববর্তী ভূমিকম্প | হালকা মাত্রার ভূমিকম্প এখানে পূর্বেও ঘটেছে |
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত স্থাপনাগত বা সামান্য প্রাকৃতিক ক্ষতি ছাড়া শেষ হয়। উপকূলীয় এলাকায় এই ধরনের হালকা ভূমিকম্প সময় সময় রেকর্ড করা হয়, যা মূলত ভূ-তাত্ত্বিক চাপ বা প্লেট চলাচলের কারণে ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভূকম্পনের সময় হালকা দুলন অনুভূত হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হালকা ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাস অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের এমন একটি এলাকা যেখানে মাঝে মধ্যে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে এসব ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষুদ্র ও স্থানীয় প্রকৃতির হয়ে থাকে, যা কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ নয়।