খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে মাঘ ১৪৩২ | ১৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চমকপ্রদ কোলাজ ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুই গোলকিপার প্রায় একই ভঙ্গিতে বল থামাচ্ছেন। একজন মরক্কোর ইয়াসিন বুনু, আরেকজন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। দুই মহাদেশের ফুটবলার হলেও, গতকাল আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে বুনুর অসাধারণ সেভের কারণে তাঁদের এই মিলন ঘটেছে।
রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলায় সেনেগাল ৩৭ মিনিটে বুনুর সেভের মাধ্যমে ম্যাচে টান ধরায়। নির্ধারিত সময়ে বুনুর ওই সেভ না করলে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলা পৌঁছত না। ছবিতে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, সেভের ভঙ্গি মার্তিনেজের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে মিলছে।
মার্তিনেজ বনাম বুনু: সেভ তুলনা
| গোলকিপার | ম্যাচ | সময় | সেভের পা | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| এমিলিয়ানো মার্তিনেজ | আর্জেন্টিনা vs ফ্রান্স | ১২৩ মিনিট (অতিরিক্ত সময়) | বাঁ পা | আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন (টাইব্রেকারে ৪–২) |
| ইয়াসিন বুনু | মরক্কো vs সেনেগাল | ৩৭ মিনিট (নিয়মিত সময়) | ডান পা | সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন (৩–২) |
মার্তিনেজের সেভের অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কোলো মুয়ানির শট থামানো। বাঁ পায়ের এক চমকপ্রদ রিফ্লেক্সের মাধ্যমে মার্তিনেজ গোল রোধ করেন এবং পরে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে জয়ী হয়।
বুনুর ক্ষেত্রে যদিও দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, তাঁর সেভও সমানভাবে চমকপ্রদ। সেনেগালের স্ট্রাইকার ইলিমান নাদিয়ায়ের শট সামলানোর সময় বুনু দুই পা ও হাতের ব্যবহার করে বলকে থামান—তাতেই মার্তিনেজের সেভের ‘কার্বন কপি’ মনে হওয়ার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে।
ফুটবল এমনই—যেখানে অনন্য মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি ঘটে। যেমন, ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সঙ্গে লিওনেল মেসির কিছু অসাধারণ গোলের মিল। ২০০৭ সালে হেতাফের বিপক্ষে মেসি চার-পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন, যা তখন সংবাদমাধ্যমে ‘কার্বন কপি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত, বুনু হয়তো শিরোপা হাতছাড়া করেছেন, তবে তাঁর সেভের সৌন্দর্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৭ ম্যাচে পাঁচটি ক্লিন শিট রক্ষা করে বুনু আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেরা গোলকিপারের ট্রফি জেতেন এবং ক্যামেরার সামনে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তা গ্রহণ করেন।