খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে মাঘ ১৪৩২ | ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায় এক নারী তার স্বামীকে হত্যা করার পরিকল্পনা চালিয়ে গেছেন। ঘটনা অনুযায়ী, লক্ষ্মী মাধুরি নামে ওই নারী তার স্বামী লোকম শিবনাগরাজুর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন। তবে সাধারণ বিরিয়ানির পরিবর্তে এতে গুঁড়া করা ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। খাওয়ার পর শিবনাগরাজু গভীর ঘুমে পড়েন।
পুলিশ জানায়, মাধুরি এরপর তার প্রেমিক গোপীকে বাড়িতে ডেকে আনে। দুজনে মিলে শিবনাগরাজুর মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো দেখানো হয়; তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়, শিবনাগরাজুর মৃত্যু শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাতের কারণে হয়েছে।
গুন্টুর জেলার পুলিশ সুপার ভাকুল জিন্দাল জানিয়েছেন, প্রথমে কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল মাধুরি সারারাত স্বামীর লাশের পাশে পর্ন ভিডিও দেখেছিলেন। তবে তদন্তে জানা গেছে, শিবনাগরাজু নিজেই মাধুরির মোবাইলে এমন ভিডিও দেখতেন এবং এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার সময় লাশের পাশে ভিডিও দেখার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাধুরি ও গোপীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। হত্যার রাতেও মাধুরি ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত বিরিয়ানি খাইয়ে স্বামীকে অচেতন করে। পরে গোপীকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছে প্রথমে মাধুরি দাবি করেন, তার স্বামী হৃদরোগে মারা গেছেন। ভোরের দিকে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে মৃত্যুর খবর দেন। কিন্তু শিবনাগরাজুর বাবা ও বন্ধুদের সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | লোকম শিবনাগরাজু |
| অভিযুক্ত | লক্ষ্মী মাধুরি (স্ত্রী), গোপী (প্রেমিক) |
| হত্যার পদ্ধতি | ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত বিরিয়ানি খাওয়ানো, মুখে বালিশ চাপা |
| স্থান | চিলুভুরু, গুন্টুর, অন্ধ্রপ্রদেশ |
| প্রাথমিক দাবি | হৃদরোগে মৃত্যু |
| ময়নাতদন্তের ফলাফল | শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাত, স্বাভাবিক মৃত্যু নয় |
| তদন্তের অবস্থা | প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন, বিস্তারিত তদন্ত চলমান |
মাধুরি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, গোপীর সঙ্গে মিলেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ আরও জানায়, মামলাটির ওপর সম্পূর্ণ তদন্ত এখনও চলমান এবং অপর কোনো সহযোগীর খোঁজ করা হচ্ছে।